ভারতের বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রীর উত্থান-পতন

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে উত্থান, তাতেই পতন

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে, ১৯৯৭ সালে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জে রক্তাক্ত হয়েছিলেন এক তরুণ ছাত্রনেতা। সেই আন্দোলনই রাজনীতিতে তাঁর উত্থানের পথ খুলে দেয়। তিনি ভারতের সদ্য পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

ভাগ্যের কি পরিহাস, যে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাজনীতিতে তাঁর আগমন, ঠিক ৩০ বছর পর ২০২৬ সালে এসে সেই প্রশ্নফাঁস ইস্যুতেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে হলো তাঁকে। কীভাবে সম্পন্ন হলো রাজনীতির এই বৃত্তপূরণ? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

১৯৯৭ সালে উড়িষ্যার প্রশ্নফাঁস ইস্যু

গল্পের শুরুটা ১৯৯৭ সালে। ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে তখন জানকী বল্লভ পট্টনায়কের কংগ্রেস সরকার। বোর্ডের প্লাস-টু, অর্থাৎ দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে রাজ্যজুড়ে হট্টগোল শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসে। সেই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের একজোট করার মূল দায়িত্বে ছিলেন বিজেপি’র ছাত্র সংগঠন এভিবিপি’র তৎকালীন জাতীয় সম্পাদক, নৃবিজ্ঞানের তরুণ ছাত্র ধর্মেন্দ্র প্রধান।

রাজ্যের রাজধানী ভুবনেশ্বরে সচিবালয়ের সামনে প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে তিনি অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। আন্দোলন চলাকালীন পুলিশ তাঁদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করে। ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুতর আহত হন। পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে রক্তে ভেসে যায় তাঁর শরীর, ভেঙে যায় শরীরের একাধিক হাড়। কিন্তু তাতেও আন্দোলন থেকে পিছপা হননি তিনি।

অবশেষে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় উড়িষ্যার তৎকালীন রাজ্য সরকার। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবকে বরখাস্ত করা হয়, শিক্ষা ব্যবস্থায় আনা হয় বড় সংস্কার। আর এই আন্দোলনের সাফল্যেই উদীয়মান তরুণ নেতা হিসেবে বিজেপির মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

রাজনীতির মসনদে উত্থান

এরপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজনীতিতে তাঁর উত্থানের গ্রাফ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ২০০০ সালে ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রথমবার উড়িষ্যা বিধানসভার বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে হন লোকসভার সংসদ সদস্য। এরপর ভারতের কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তিনি একে একে সামলেছেন পেট্রোলিয়াম, স্টিল এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। 

এরপর ২০২১ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান ধর্মেন্দ্র প্রধান। একদিন যে ছাত্রটি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রক্ত ঝরিয়েছিলেন, তিনিই ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক পদে আসীন হন। কিন্তু তখন কি তিনি জানতেন, ৩০ বছর পর ইতিহাস আবার একই জায়গায় এসে মিলিত হবে?

২০২৬: ইতিহাসের পরিহাস ও পদত্যাগ

২০২৬ সালের মে মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’। আর সেখান থেকেই আবার শুরু হয় প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারি। দিল্লি, কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ক্ষোভ। 

'ককরোচ জনতা পার্টি'- সিজেপির নেতৃত্বে দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে টানা আন্দোলন শুরু হয়। তাঁদের প্রধান দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এর পাশাপাশি শিক্ষাবিদ ও পরিবেশবিদ সোনাম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের টানা অনশন এবং বিরোধী দলগুলোর প্রচণ্ড চাপের মুখে নরেন্দ্র মোদির সরকার কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

অবশেষে গত ২৫ জুলাই (শনিবার) সকালে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে (সাবেক টুইটার) এক দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। 

পোস্টে তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত তাঁর ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়।’ আন্দোলনকে যাতে কোনো ‘দেশবিরোধী শক্তি’ ব্যবহার করতে না পারে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় আটকে না পড়ে, সেজন্যই তিনি সরে দাঁড়ালেন।

রাজনীতির বৃত্তপূরণ

ককরোচ জনতা পার্টি- সিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বিষয়টিকে তাঁদের ৩৬ দিনের আন্দোলনের প্রথম ঐতিহাসিক জয় বলে ঘোষণা করেন। এরপর সেদিনই মোদি সরকার শিক্ষার্থীদের সকল দাবিদাওয়া পূরণের আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। 

একটু গভীরভাবে ভাবলে দেখা যায়, ১৯৯৭ সালে ধর্মেন্দ্র প্রধান যে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় নেতা হয়ে উঠেছিলেন, ২০২৬ সালে এসে সেই প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির শিকার হতে হলো তাঁকেই।

প্রশ্নফাঁসে উত্থান, প্রশ্নফাঁসেই পতন- অভিজ্ঞ রাজনীতিক ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই পরিণতি আরও একবার দেখালো, রাজনীতিতে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি কতটা অদ্ভুতভাবে হয়। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাঁর এই পদত্যাগ কি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নফাঁসের কেলেঙ্কারি থেকে মুক্তি দিবে? মোদি সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষোভ, সেটা কি দীর্ঘমেয়াদে প্রশমিত হবে? উত্তরটা না হয় ভবিষ্যতের জন্যই তোলা রইলো।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের কাছে বড় ধরনের ছাড় দিতে হয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নয়; তরুণদের ক্ষোভ, বেকারত্ব ও সরকারের...
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা 'নিট'-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ পরীক্ষা ব্যবস্থায় নানা অনিয়মের প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলা নজিরবিহীন আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয়...
গত মাস থেকে চলা এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দিল্লির যন্তর মন্তর। সরকার আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবিও মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল— নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা...
দিল্লিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তৃতীয় দফা বৈঠকের আগে এক্সে দেওয়া পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি এবং পরে...
দেশে প্রতিদিন ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং আগামী সপ্তাহের...
সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চীন একসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার ছিল, এরপর বিনিয়োগ অংশীদার এবং বর্তমানে কৌশলগত অংশীদারে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যথাসময়ে হবে। কে মনোনয়ন পাবেন সে বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ...
লোডিং...

এলাকার খবর