ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ একটি বিরল ঘটনা। এতটাই বিরল যে এর সঙ্গে তুলনা করতে হলে ২০১৮ সালে ফিরে যেতে হয়, যখন এম জে আকবর কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ধর্মেন্দ্রই বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রী। খবর এনডিটিভি।
শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)–এর নেতৃত্বে চলা আন্দোলনের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত মাস থেকে চলা এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দিল্লির যন্তর মন্তর। সরকার আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবিও মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল— নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। চলতি সপ্তাহে সংসদ অভিমুখে মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া।
তবে আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে একচুলও সরে আসেননি। এমনকি আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা পরবর্তী দফার আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবেও সিজেপি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে শর্ত হিসেবে তুলে ধরে।
পদত্যাগের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সম্পূর্ণ দায় তিনি নিজের কাঁধে নিচ্ছেন এবং তিনি কখনোই পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। তবে তার অভিযোগ, দায়িত্বশীল কিছু ব্যক্তি নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
এরপর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত পদত্যাগপত্রে ৫৭ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন— “যন্তর মন্তর এবং সারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলো যেন এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, জাতীয় ঐক্য অটুট থাকে, কোনো ভারতীয় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায় এবং আমাদের সন্তানরা যেন তাদের সময় পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গঠনে ব্যয় করতে পারে—এই লক্ষ্যেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।”
বিরোধী নেতারা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘অহংকারী’ আচরণের অভিযোগ করে আসছেন। তাদের দাবি, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক বিতর্কের পরও মন্ত্রীরা সাধারণত পদত্যাগ করেন না।
এর আগে একই ধরনের—যদিও অভিযোগের প্রকৃতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—একমাত্র ঘটনা ঘটেছিল ২০১৮ সালে, যখন এম জে আকবর পদত্যাগ করেন।
২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এম জে আকবরের বিরুদ্ধে দেশের #MeToo আন্দোলনের সময় একাধিক নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। অভিযোগকারী নারীদের অধিকাংশই বিভিন্ন সময়ে তার অধীনে কাজ করেছিলেন বা তার সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত ছিলেন, যখন তিনি দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন।


শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ
