যুদ্ধের ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি এখনো অধরা। তবে এই সময়ে অন্তত কয়েকবার দুই দেশ এমন অবস্থায় পৌঁছেছিল, যখন মনে হয়েছিল যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু প্রতিবারই শেষ মুহূর্তে এসে আলোচনা ভেঙে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এর অন্যতম কারণ আস্থার ঘাটতি ও কৌশলগত বিরোধ। আল জাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা চলমান থাকা অবস্থাতেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আকস্মিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এরপর টানা ৪০ দিন ধরে চলে রক্তক্ষয়ী সংঘাত।
এরপর গত ৮ এপ্রিল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনায় দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের আশা থাকলেও ইতোমধ্যেই পেরিয়ে গেছে ২ মাস।
এসময়ে প্রথম ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনা হয় ১১ থেকে ১২ এপ্রিল, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। দুই পক্ষই দীর্ঘ সময় আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, ইরান তাদের চূড়ান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করেনি, বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতভেদই ছিল মূল বাধা।
এরপর ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমর্থনে লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখায় এই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। ইরান বলেছিল, লেবাননে শান্তি না এলে বৃহত্তর শান্তি সম্ভব নয়।
গত ১৭ এপ্রিল ইরান ঘোষণা দেয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত করা হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তাদের নৌ অবরোধ চলবে যতক্ষণ না পূর্ণ চুক্তি হয়। ফলে এই উদ্যোগও ব্যর্থ হয়।
পরবর্তীতে গত ১ জুন ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন। এতে নতুন করে শান্তির আশা জাগলেও বাস্তবে হামলা ও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবারই দুই পক্ষ প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত একমত হলেও শেষ ৫ শতাংশের বিষয় নিয়ে একমত হতে পারেনি তারা। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি ও নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে আলোচনা চুক্তির কাছাকাছি এসেও এক পর্যায়ে ভেস্তে যায়।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একাধিকবার শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও আস্থার ঘাটতি ও কৌশলগত বিরোধের কারণে স্থায়ী চূড়ান্ত সমাধান এখনও সম্ভব হয়ে উঠেনি।



