লেবাননকে ঘিরে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এখন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সংকটে পরিণত হয়েছে। সেইসাথে ইরান বদলেছে দীর্ঘদিনের কৌশল। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটি এখন আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শন না করে তাদের সুরক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহার করছে। তেহরানের এই অবস্থান পুরো সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও বিপজ্জনক করে তুলছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ থেকে থেকে বাড়ছে। বৈরুতে হামলার জবাবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংযমের আহ্বান উপেক্ষা করে তেহরানসহ ইরানের ৩ শহরে পালটা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। পরে উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। যা লঙ্ঘনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলে হামলার চালানোর মাধ্যমে ইরানের বার্তা স্পষ্ট। বৈরুত তাদের জন্য রেড লাইন। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালালে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখাবে ইরান।
বর্তমান সংকটের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, ইরানের কৌশলগত অবস্থান বদল। এতদিন আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার ও প্রতিরোধ গড়ে তুললেও এখন নিজেদের সুরক্ষায় সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথে হাঁটছে তেহরান।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির গবেষক নেগার মরতা জাভির মতে, ইসরায়েলকে সতর্ক করতে আগে থেকেই ওয়াশিংটনের কাছে বার্তা পাঠিয়েছিল তেহরান। সাম্প্রতিক হামলায় সেই সতর্কতার প্রমাণ মিলেছে। একইসাথে এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে, আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থ উপেক্ষা করে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। একদিকে তিনি ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে চান, অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করাও তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগ থাকলেও স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা আগের চেয়ে আরও জটিল হয়ে পড়েছে। কারণ ইরান, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ কেউই নিজেদের অবস্থান থেকে সরছে না।
গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত ছাড়িয়েছে ৩ হাজার ৬শ। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও আদতে সেগুলো কার্যকর হয়নি।



