বাহরাইনের রাতের আকাশে আবারও বিস্ফোরণের ঝলকানি! ড্রোনের আঘাত, চারদিকে আতঙ্কের খবর। ইরানের দাবি—তাদের ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে উঠেছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। টার্গেট আমেরিকার ‘চোখ ও কান’ হিসেবে পরিচিত নেভিগেশন সিস্টেম! যে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয় আধুনিক সামরিক অভিযান, সেই ব্যবস্থাই কি এবার হামলার নিশানায়?
ঘটনার কেন্দ্র বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান। ইরানের দাবি, তাদের একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন এই ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। তেহরানের বক্তব্য—এই অভিযানের লক্ষ্য মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, নেভিগেশন সিস্টেম এবং প্রশাসনিক ও সহায়তা স্থাপনা।
ইরান বলছে, এটি ছিল প্রতিশোধমূলক অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবেই এই আঘাত। বারবার হামলায় তারা দেখিয়ে দিতে চায়, দূর থেকে পরিচালিত ড্রোন প্রযুক্তি দিয়েও বড় সামরিক শক্তিকে চাপে ফেলা সম্ভব।
কিন্তু হঠাৎ বাহরাইনের এই সামরিক ঘাঁটিতেই কেন ইরানের হামলা? দীর্ঘদিন ধরে বাহরাইন উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র। এখানে রয়েছে নজরদারি সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক সামরিক অভিযানের সহায়কের নানা অবকাঠামো। আর তাই এই ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা তৈরি করেছে নতুন উদ্বেগ।
তবে ওয়াশিংটনের বক্তব্য—তারা যেকোনো আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত। মার্কিন সামরিক বাহিনী এর আগে জানিয়েছিল, তারা ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল মিসাইল স্থাপনা, ড্রোন অবকাঠামো, কমান্ড সেন্টার এবং সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এরপর থেকেই চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা। একদিকে আমেরিকার উন্নত বিমানশক্তি, অন্যদিকে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কৌশল। একদিকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক প্রযুক্তি, অন্যদিকে কম খরচে বড় প্রভাব তৈরির চেষ্টা।
এই সংঘাত এখন আর শুধু দুই দেশের লড়াই নয়, আধুনিক যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে। যদি কম খরচের ড্রোন দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোকে চাপে ফেলা যায়, তাহলে আগামী দিনের যুদ্ধের হিসাব কি বদলে যাবে? বড় অস্ত্রের পাশাপাশি ছোট প্রযুক্তিই কি হয়ে উঠবে নতুন শক্তির প্রতীক?
প্রশ্ন উঠছে, বাহরাইনে ইরানের এই হামলায় কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হলো আমেরিকা? অচল নেভিগেশন সিস্টেম সারিয়ে তুলতে কতটা কাঠখড় পোড়াতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে? পাল্টাপাল্টি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত যখন তুঙ্গে, ঠিক এই মুহূর্তে নেভিগেশন সিস্টেমে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি কতটা ভারী পড়বে আমেরিকার ওপর? বিশ্ব এখন এসব প্রশ্নেরই উত্তরের অপেক্ষায়।



