ইরানের ওপর হামলা চালাতে নিয়ে আসা মার্কিন সেনারা 'খ্যাদ্য সংকট'সহ চরম মানবিক পরিস্থিতিতে আছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ তৈরি হয়েছে চরম মানবিক ও মানসিক সংকট। শুক্রবার বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন বলছে, টানা ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করা হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও নাবিক বর্তমানে তীব্র খাদ্যসংকট, অকার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং চরম ক্লান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। পরিস্থিতি এতটাই করুণ যে, একাধিক সদস্য জাহাজ থেকে সাগরে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যম এবং সেনাসদস্যদের পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কাছে এই বিষয়ে জরুরি জবাব চেয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান মাইকেল লেভিন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জাহাজের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে জানান, ক্রু সদস্যরা প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
লেভিনের দেওয়া তথ্যমতে, রণতরীটিতে মোতায়েন থাকা সেনারা ছত্রাকযুক্ত বা মোল্ড ধরা শাওয়ার ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। নষ্ট হয়ে গেছে টয়লেট ও প্লাম্বিং ব্যবস্থা। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে জামাকাপড় ধোয়ার সুবিধা (লন্ড্রি) বন্ধ। এছাড়া মিলছে না গরম পানি।
দুর্ভোগের এখানেই শেষ নয়। সেনাসদস্যরা সপ্তাহে মাত্র একবেলা খাবারে অর্ধেক কাপ ভাত ও দুটি পাউরুটি পাচ্ছেন। সাবান, ডিওডোরেন্ট (সুগন্ধি) কিংবা টুথপেস্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রীরও চরম সংকট তৈরি হয়েছে সেখানে।
জাহাজে থাকা এক নাবিকের স্বজন বিবিসিকে জানান, দীর্ঘদিনের এই দুঃসহ পরিস্থিতিতে তার স্বজন অন্তত ২৯ কেজি (৬৫ পাউন্ড) ওজন হারিয়েছেন। নাবিকের পাঠানো শেষ বার্তাটি ছিল: 'আমি মৃতপ্রায় ক্লান্ত। একেবারেই শেষ।'
সামরিক প্রকাশনা মিলিটারি টাইমস এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন থাকা এবং জাহাজের ভেতরে অবিরাম ইঞ্জিন ও যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দের কারণে অনেক সেনা মারাত্মক মানসিক সংকটে ভুগছেন।
সম্প্রতি এক নাবিক সমুদ্রের পানিতে পড়ে গেলে হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায় নৌবাহিনী। তবে স্বজনদের দাবি, এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে জাহাজ থেকে লাফ দিয়েছিলেন তিনি।



