সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরায়েলে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অচলাবস্থা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট কাটাতে দেশটির সামনে ৪টি পথ খোলা রয়েছে। যা হলো, বিরোধী ঐক্যের জোট সরকার, সব পক্ষকে নিয়ে জাতীয় সরকার, বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের দলে ভিড়িয়ে নেতানিয়াহুর সরকার, আর এসবের কোনোটাই সম্ভব না হলে, পুনঃনির্বাচন।
এ নিয়ে সম্প্রতি সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সিএনএনের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সাধারণ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দলগুলোর মধ্যে গভীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভাজন জোট গঠনের প্রক্রিয়াও জটিল করে তুলেছে।
তবে বিশ্লেষকদের বিবেচনায় ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের ৪টি বিকল্প আছে। যার মধ্যে একটি হলো- বিরোধীদের ঐকমত্যের সরকার গঠন।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধীদের সবচেয়ে সহজ পথ হতে পারে ইহুদি ও আরব দলগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করা। তবে, এখানেও রয়েছে বাধা। বিরোধী জোটের ডানপন্থী দুই নেতা- নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান, দুই আরব দল- জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের সমর্থনে সরকার গঠনে আগ্রহী নন।
সরকার গঠনের ২য় বিকল্পটি হলো, জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন। যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির পাশাপাশি তার বর্তমান জোটের কয়েকটি দল এবং বিরোধী জোটের অন্তত একটি দলকে যুক্ত হতে হবে। তবে, বিরোধী জোটের নেতা আইজেনকোট আগেই নেতানিয়াহুর সঙ্গে একই সরকারে না থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
আরেকটি বিকল্প হলো- বিরোধী জোটের দল বা আইনপ্রণেতাদের নেতানিয়াহুর পক্ষ নেওয়া। তবে সমস্যা হলো, জোট সরকার গঠন করতে নেতানিয়াহুর দরকার আরও ৮ জন জনপ্রতিনিধির সমর্থন। আর ইসরায়েলের রাজনীতিতে তার বর্তমান ভাবমূর্তির কারণে ৮ জনকে দলে ভেড়ানোর কাজটা মোটেই সহজ হবে না।
তার মানে অচলাবস্থা কাটানোর সবশেষ যে পথ খোলা থাকবে তা হলো পুনঃনির্বাচন। দলগুলোর নেতারা আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে সংবিধান অনুযায়ী যা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে।


