১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগাভাগি, অর্থাৎ দেশভাগের আগে ব্যবহার হওয়া নাম পুনরুদ্ধার করতে চলেছে লাহোরের অনেক ঐতিহাসিক অঞ্চল ও সড়ক। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সরকার সম্প্রতি শহরটিতে দেশভাগের আগে ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতেই সড়ক ও জায়গার নাম পরিবর্তন হতে যাচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
লাহোরের অনেক ঐতিহাসিক সড়ক ও জায়গার নামই দেশভাগের আগে ছিল হিন্দু ও জৈন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দেশভাগের পর বছরের পর বছর ধরে এসব রাস্তার নাম বদলে ইসলামিক, পাকিস্তানি বা স্থানীয় ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের নাম দেওয়া হয়।
যেমন কুইন্স রোডকে বদলে নাম দেওয়া হয় ফাতিমা জিন্নাহ রোড। একইভাবে জেল রোডকে আল্লামা ইকবাল রোডে, ডেভিস রোডকে সির আগা খান রোডে, লরেন্স রোডকে বাগ-ই-জিন্নাহ রোডে এবং এম্প্রেস রোডকে শাহরাহ-ই-আবদুল হমীদ বিন বাদিসে নামকরণ করা হয়েছে। কৃষ্ণনগরকে ইসলামপুরা, সান্তনগরকে সুন্নত নগর, ধরমপুরাকে মুস্তফাবাদ, ব্র্যান্ডরেথ রোডকে নিস্তার রোড এবং টেম্পল স্ট্রিটকে হমীদ নিজামী রোডে রূপান্তর করা হয়।
লক্ষ্মী চওককে মৌলানা জাফর আলী খান চওক, জৈন মন্দির রোডকে বাবরি মসজিদ চওক, রাম গালি রেহমান গালি, কুমহারপুরাকে গাজিয়াবাদ এবং আউটফল রোডকে জিলানি রোডে নামকরণ করা হয়েছে।
এখন এসব নামের অনেকগুলোই কেন আবার বদলানোর পরিকল্পনা? পাঞ্জাব সরকারের এক কর্মকর্তা এ ব্যাপারে পিটিআইকে বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মেরিয়াম নওয়াজের সভাপতিত্বে পাঞ্জাব মন্ত্রিপরিষদ সভা কয়েক দিন আগে লাহোর ও এর আশপাশের বিভিন্ন রাস্তা ও সড়কের দেশভাগের আগে প্রাথমিক ও ঐতিহাসিক নাম পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল ঐতিহাসিক শহরের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শেরিফ, যিনি লাহোর হেরিটেজ এরিয়াস রিভাইভাল প্রজেক্টের প্রধান, তিনি এই প্রস্তাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও পিটিআইকে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। নওয়াজ শরিফের প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন পেয়েছে গত সপ্তাহে।
শেরিফ তিনটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং মিন্টো পার্কে (বর্তমানে গ্রেটার ইকবাল পার্ক) একটি প্রথাগত আখড়া (কুস্তি খেলার অ্যারেনা) পুনঃস্থাপনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে সেটিকে পাপমোচনের চেষ্টা হিসেবেই বরং দেখা হচ্ছে। নওয়াজ শরিফের ভাই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শেরিফ ২০১৫ সালে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় তিনটি ঐতিহাসিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড, ক্লাব এলাকা এবং কুস্তি অ্যারেনা গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে শহর উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ভবন তৈরি করেন, যা নিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিতও হয়েছিলেন শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হকসহ অনেক ক্রিকেটার মিন্টো পার্কে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
দেশভাগের আগে ভারতীয় ক্রিকেটার লালা অমরনাথও সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে যখন অমরনাথ ভারতীয় ক্রিকেট দল নিয়ে লাহোর সফরে যান, তিনি ক্রিসেন্ট ক্রিকেট ক্লাবের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটান। দেশভাগের আগে ওই ক্লাবটির হয়ে খেলেছিলেন লালা অমরনাথ।
মিন্টো পার্কের ধ্বংস হওয়া কুস্তি অ্যারেনায় এক সময় কিংবদন্তি কুস্তিগীররা খেলেছেন, যেমন গামা পেহলুয়ান, গুঙ্গা পেহলুয়ান এবং ইমাম বখশ।
দেশভাগের আগে হিন্দুরা মিন্টো পার্কে দশেরা উৎসবও উদযাপন করত।



