বর্তমানে প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছে সাইবার ক্রাইম। সাইবার অপরাধ একটি বাউন্ডারিলেস (সীমানাহীন) ক্রাইম। এই ধরনের অপরাধে এক দেশে বসে আরেক দেশের নাগরিকদের ভিকটিম বানিয়ে অপরাধ সংগঠিত করা হয়।
আমাদের দেশে সাইবার অপরাধের বেশির ভাগ ভুক্তভোগী হলেন নারীরা। তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে দেশে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের ব্যবহার যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। সাধারণত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকসহ অন্য মাধ্যমগুলোয় এ অপরাধের প্রবণতা বেশি।
সাইবার অপরাধে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীরা। এসব নারীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ ফেসবুক ঘিরে। যেখানে আইডি হ্যাক থেকে শুরু করে সুপার ইম্পোজ ছবি এবং পর্নোগ্রাফির মতো ভয়াবহ অভিযোগও রয়েছে।
হয়রানির শিকার হলেও ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগই এর বিরুদ্ধে কীভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় সে বিষয়ে জানেন না। বাকিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না ভেবে অভিযোগ করেন না।

এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ধারণার অভাব এবং লোকলজ্জা ও ভয়ভীতি প্রধান কারণ। এতে একদিকে যেমন নারীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তেমনি ব্ল্যাকমেইল ও হুমকির কারণে তাদের ব্যক্তিগত জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে।
তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের অজ্ঞতার কারণে দিনকে দিন এ ধরনের অপরাধ বেড়েই চলছে। বাংলাদেশে ২০০৬ সালে প্রথম সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ আইন (আইসিটি অ্যাক্ট) প্রণয়ন করা হয়। এরপর ২০১৩ সালে এই আইন সংশোধন করা হয়। এ আইনে কারো অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও তোলা এবং তা প্রকাশ করার অপরাধে ১০ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের সঠিক ব্যবহারের ব্যাপারে সচেতন করার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ করা হলে সাইবার অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে।
এ ছাড়া সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে একটি সাইবার হেল্প ডেস্কও রয়েছে। এই হেল্পলাইন সপ্তাহের ৭ দিন, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। বাংলাদেশের যে কোনো জায়গা থেকে যে কেউ হেল্পলাইনে সরাসরি ফোন করে অথবা এসএমএসের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
এ ছাড়া সাইবার হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে হটলাইন '৯৯৯' চালু করেছে সরকার। যে কেউ সাইবার অপরাধের শিকার হলে এই হটলাইনে ফোন করেও অভিযোগ জানাতে পারবেন। বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সাইবার অপরাধ তদন্ত বিষয়ক সেল রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর তৎপরতা এগিয়ে নেওয়া এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট



