ডিশোসিয়েটিভ ডিসঅর্ডার হলো এক ধরনের রোগ, যেখানে রোগীর মধ্যে একাধিক সত্তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। রোগী নিজের স্মৃতি, ব্যক্তিত্ব ও বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে সাময়িককালের জন্য পরিচিত অথবা সম্পূর্ণ অলীক কোন স্মৃতি, ব্যক্তিত্ব বা বৈশিষ্ট্য ধারণ করে থাকে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি তার চিন্তা, স্মৃতি, পারিপার্শ্বিক কাজ এবং সত্তার মধ্যে যোগসূত্রটি হারিয়ে ফেলে। এই হারিয়ে ফেলাটি হয় অবচেতনভাবে।
এ রোগে রোগী নিজেকে অন্য কেউ ভাবতে শুরু করে। কথা বার্তা, চালচলন, আচার আচরণ ইত্যাদি সবকিছুতেই ভিন্নতা আসে। আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন ডিএসএম ৫ প্রধানত তিন ধরনের ডিশোসিয়েটিভ ডিসঅর্ডারকে সংজ্ঞায়িত করে। যেমন:
১. বিচ্ছিন্ন স্মৃতিভ্রষ্টতা: এর প্রধান উপসর্গ স্মৃতিভ্রষ্টতা। এটি নির্দিষ্ট কিছু মুহূর্ত, ঘণ্টা বা ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেশিও হতে পারে। Dissociative fudge এটি একটি অস্থায়ী অবস্থা যখন স্মৃতিভ্রষ্ট হচ্ছে এবং নিজেকে অদ্ভুত একটা জায়গায় আবিষ্কার করছেন এবং প্রশ্ন করছেন আমি কে? আমি কোথায় আসলাম? ইত্যাদি।
২. বিচ্ছিন্ন অস্তিত্ব শনাক্তের ব্যাধি: একাধিক আত্মসত্ত্বা উপস্থিতির ব্যাধি। এখানে এক ধরনের ব্যক্তিত্ব থেকে আরেক ধরনের ব্যক্তিত্বের সুইচ করে বা সহজ বাংলায় পালাবদল ঘটে। আপনি অনুভব করবেন, আপনার মাথার ভেতরে দুজন বা আরও বেশি মানুষ কথা বলছে, অথবা আপনার ভেতরেই তারা বাস করছে। মনে হবে, জ্বীনের আছরের মতন আপনার উপর আছর করেছ অন্যান্য কোন সত্তা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রত্যেকটা সত্তার আলাদা নাম, আলাদা ব্যক্তিগত ইতিহাস এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আছে। শুধু তাই নয়, এদের গলার স্বর, জেন্ডার আচরণ এমনকি শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যেও পার্থক্য আছে। যেমন: একটা সত্তা হয়ত চশমা পরে, আরেকটি পড়ে না। Dissociative fudge এখানেও থাকতে পারে।
৩. ডিপারসোনালাইজেশন-ডিরিয়েলাইজেশন ডিসঅর্ডার: এটা লাগাতার হতে পারে অথবা পর্যায়ক্রমে হতে পারে। যেখানে মনে হবে, নিজেকে খুঁজে পাচ্ছি না, বাইরে থেকে নিজেকে দেখছি। ঠিক যেন, দূর থেকে একটি সিনেমা চলছে। আর নিজেকে সেই সিনেমার একটা চরিত্র হিসেবে দেখছি। এটাকে বলা হচ্ছে ডিপারসোনালাইজেশন। এর সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য মানুষ এবং বিষয়বস্তু নিজের চারপাশে মনে হবে আমি বিচ্ছিন্ন তার থেকে, সবকিছু কুয়াশাচ্ছন্ন অথবা স্বপ্নের মতন সবকিছু খুব দ্রুত লয়ে যাচ্ছে বা খুবই ঢিমেতালে চলছে। চারপাশের পৃথিবীটা অবাস্তব বা পরাবাস্তব মনে হবে। একে বলা হচ্ছে ডিরিয়েলাইজেশন।
যারা সাধারণত ট্রমা অনুভব করেন, তাদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দিতে পারে। যেমন: সহিংসতা বা অন্যান্য ধরনের মানসিক চাপ। এর স্থায়িত্বকাল কিছু মুহূর্ত হতে পারে, আরেকটু লম্বা সময় থাকতে পারে অথবা আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকতে পারে। এর সাথে সিজোফ্রেনিয়া বা প্যানিক ডিসঅর্ডারকে কিন্তু মেলানো যাবে না।
লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সিলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাক্টিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, বাংলাদেশ
আরো পড়ুন:



