সরকারি চাকরিতে সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। কোটা বাতিলের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ, কারওয়ান বাজার হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীর বাসিন্দারা।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ থেকে সাইন্সল্যাব পর্যন্ত সড়ক অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা। কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে ৬৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে।
রাজধানীর শাহবাগ থেকে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নুরে আলম জানান, বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সেখানে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, সাইন্সল্যাব, নিউমার্কেট, চানখারপুল, মৎস্যভবন এলাকা অবরোধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা।
নুরে আলম জানান, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে যারা অফিস শেষে ঘরে ফিরছেন তাদের দীর্ঘ সময় সড়কেই পার করতে হচ্ছে।
নুরে আলম জানান, কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে ৬৫ সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই কমিটির নেতারা দাবি করেছেন, এ আন্দোলন সবার জন্য। আমরা আমাদের দাবি আদায় করেই ক্লাস রুমে ফিরে যাব। সাময়িক যে যানজট তৈরি হয়েছে তার জন্য সাধারণ যাত্রীদের অসুবিধা মেনে নিতে অনুরোধ জানান। তারা সকলের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন বলে দাবি করেন তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি, কোটা সংস্কার করতে হবে। এবং ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকার যে পরিপত্র ঘোষণা করেছিল কোটা বাতিলের, সেটি আবার পুনর্বহাল করে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি দিয়ে কোটার সংস্কার করতে হবে। নৃ–গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা রাখতে হবে বলেও তারা দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা–চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। ফলে কুমিল্লা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।



