গর্ভকালীন নারীদের বিভিন্ন ধরনের শারীরবৃত্তীয় ও হরমোনের পরিবর্তন দেখা দেয়। এর মধ্যে হরমোনের উচ্চমাত্রাসহ কিছু ঝুঁকির কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হল এমন একটি অবস্থা যেখানে ডায়াবেটিসবিহীন একজন নারীর গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। তাই গর্ভকালীন নারীদের ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হলে করণীয়
- গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ধরা পড়লে দেখা হয় ডায়াবেটিস কতটা আছে। রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রথমেই একটি খাদ্যতালিকা তৈরি করে দেওয়া হয়। খাদ্যতালিকা অনুসরণ করার এক সপ্তাহ পর যদি পরীক্ষা করে দেখা যায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এসেছে তাহলে পরামর্শ হলো, রোগী এভাবেই খাদ্য ও জীবনযাপন প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখবে। পাশাপাশি রেগুলার এন্টিনেটাল চেকআপ বা গর্ভকালীন রুটিন চেকআপ করবেন।
- যদি খাদ্যতালিকা অনুসরণ করার এক সপ্তাহ পরেও ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকে তবে ইনসুলিন দেওয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত চিকিৎসা হলো ইনসুলিন। ইনসুলিন মা ও শিশু উভয়ের জন্যই নিরাপদ।
- প্রথমে অল্পমাত্রার ইনসুলিন শুরু করে ৩ দিন অন্তর পরীক্ষা করে দেখা হয় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এসেছে কিনা। যদি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে সেক্ষেত্রে ১ সপ্তাহ বা ২ সপ্তাহ পরপর ডায়াবেটিস চেক করলেই হয়।
- রক্তের গ্লুকোজ অনিয়ন্ত্রিত হলে ইনসুলিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হয় এবং নিয়মিত ডায়াবেটিস পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হয়।
- গর্ভবতী ডায়াবেটিক নারীর খাদ্যতালিকায় ভাত, রুটির পরিমাণ কমিয়ে প্রোটিন জাতীয় খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখতে হবে।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী মায়ের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হালকা হাঁটাহাঁটি করা ভালো।
- গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হলে শুধু খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিকভাবে সবকিছু করতে হবে।
- রোগীর ব্লাড সুগার ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ না হলে, ৩৭ সপ্তাহে অনেক সময় বাচ্চার ডেলিভারি করে ফেলা হয়। কারণ শেষের দিকে বাচ্চা অনেক সময় পেটের মধ্যে মারা যেতে পারে।
- ডেলিভারি নরমাল বা সিজার যেটাই হোক না কেন, প্রথম থেকে যত তাড়াতাড়ি মায়ের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করা যাবে ততই বাচ্চার জন্য ভালো হবে।
- যার গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ছিল এবং সন্তান প্রসবের পর তা স্বাভাবিক হয়ে গেছে, তাদের অবশ্যই সন্তান প্রসবের ছয় সপ্তাহ পর একটা স্ক্রিনিং টেস্ট করে করে জেনে নিতে হবে ডায়াবেটিস রয়ে গেল, নাকি ভালো হয়ে গেছে।
- যার একবার গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়েছে, তার ভবিষ্যতে টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা ৭০ শতাংশ বেশি। তাই তাকে অবশ্যই একটা সুনিয়ন্ত্রিত খাদ্যব্যবস্থার মধ্যে থাকতে হবে। কোনোভাবেই ওজন বাড়তে দেওয়া যাবে না।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক (গাইনি), চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ


মানসিক চাপে নিজেকে যেভাবে ভালো রাখবেন
হেপাটাইসিস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কী?
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে কারা থাকেন?
