ইউরিনে ইনফেকশন বা প্রস্রাবের সংক্রমণ খুব পরিচিত একটি রোগ। এমন কোনো নারী পাওয়া দুষ্কর, যিনি তার জীবদ্দশায় একবারও ইউরিনের ইনফেকশনে আক্রান্ত হননি। যদিও নারীদের ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্তের হার বেশি, তবে পুরুষেরা যে এই রোগে আক্রান্ত হন না—তেমনটা নয়। বরং, পুরুষেরা আক্রান্ত হলে তুলনামূলক দীর্ঘদিন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তাই রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা রাখা এবং তা প্রতিরোধের উপায় জানা থাকা- সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রস্রাবের সংক্রমণের কারণ
শরীরের বর্জ্য পদার্থ কিডনির মাধ্যমে ছেঁকে মূত্রনালি দিয়ে মূত্র হিসেবে বের হয়ে যায়। মানুষের শরীরের দুটি কিডনি, দুটি ইউরেটার, একটি ইউরিনারি ব্লাডার (মূত্রথলি) এবং ইউরেথ্রা (মূত্রনালি) নিয়ে মূত্রতন্ত্র গঠিত। এই রেচনন্ত্রের যেকোনো অংশে যদি জীবাণুর সংক্রমণ হয়, তাহলে সেটাকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বলা হয়। কিডনি, মূত্রনালি, মূত্রথলি বা একাধিক অংশে একসঙ্গে এই ধরনের ইনফেকশন হতে পারে। কয়েকটি কারণে ইউরিনে ইনফেকশন হতে পারে-
১. দেশে বাড়ছে পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা। তবে সেটাও এখন পর্যন্ত যথেষ্ট অপ্রতুল। এছাড়াও রয়েছে কর্মস্থলে নারী সহকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক টয়লেটের ঘাটতি। সেকারণে, এক প্রকার বাধ্য হয়ে দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে থাকতে হয়। যেটা প্রস্রাবে সংক্রমণের প্রধান কারণ।
২. এর পাশাপাশি রয়েছে অপর্যাপ্ত পানি পান করা। বিশেষ করে, আমাদের দেশের গ্রীষ্মকালের মত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত পানি পান না করা। এতে করে, প্রস্রাব ঘনীভূত হয় এবং সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে।
৩. ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে- প্রস্রাবে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
৪. গর্ভবতী অবস্থায় বা বয়স্ক মহিলাদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে দেখা যায় ঘন ঘন ইউরিনে ইনফেকশন হয়।
৫. পুরুষের প্রস্রাবের নালির পাশে প্রস্টেট নামের একটি গ্রন্থি থাকে, যেটা বৃদ্ধ বয়সে বড় হয়ে প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। যাতে প্রস্রাবে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
৬. অনেক সময় স্ট্রোক বা মেরুদণ্ডে আঘাতজনিত বা অন্য কোনো কারণে দীর্ঘদিন প্রস্রাবের রাস্তায় নল পরিয়ে রাখতে হয়, এতেও প্রস্রাবের সংক্রমণ হয়।
৭. আরও কিছু অভ্যাস, যেমন: গোসলের সময় গোপনাঙ্গ ভালোভাবে পরিষ্কার না করা, আকারে ছোট অন্তর্বাস ব্যবহার করা, দৈহিক মিলনের পরে গোপনাঙ্গ ভালোভাবে পরিষ্কার না করা ইত্যাদিও ইউরিনে ইনফেকশনের আশঙ্কা বাড়ায়।
ইউরিনে ইনফেকশনের লক্ষণ
ইউরিনে ইনফেকশন বা প্রস্রাবে সংক্রমণের কিছু সাধারণ রোগলক্ষণ আছে, যা দিয়ে সহজেই বোঝা যায় যে আপনি এই রোগে সম্ভবত আক্রান্ত। যেমন:
১. প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া করা, ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া, তলপেটে ব্যথা হওয়া, প্রস্রাব শেষ হওয়ার পরেও কিছু প্রস্রাব অবশিষ্ট থেকে যাওয়া।
২. লালচে-হলুদাভ বা ঘোলাটে রঙের প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ হওয়া, প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া।
৩. কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা। এগুলো থাকলে সহজেই বোঝা যায় যে, প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়েছে।
তবে এক্ষেত্রে আরও কিছু লক্ষণ আছে, যেমন:
১. ক্ষুদামন্দা, বমি-বমি ভাব।
২. পিঠে ব্যথা, জ্বর-জ্বর ভাব।
৩. শারীরিক দুর্বলতা।
এগুলো থাকলেও প্রস্রাবে সংক্রমণ হতে পারে।
লেখক: এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ


সংক্রমিত দাঁত থেকে কী ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে?
প্রবীণদের ডায়েট কেমন হবে, কী খাবেন আর কী নয়?
কেমন হবে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ব্যবস্থাপনা?
