কীভাবে শিশুদের ট্রমা কাটবে?

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৪, ০৪:১৭ পিএম

শিশুদের ট্রমা মানে, যখন কোনো শিশু এমন একটি ঘটনার সম্মুখীন হয়, যা তার জন্য অত্যন্ত ভয়ানক বা আঘাতজনক। এই ঘটনা তাদের মনের উপর গভীর প্রভাব ফেলে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে।

এটা এমন এক মানসিক অবস্থা, যা কোনো ভয়ংকর বা কষ্টদায়ক ঘটনার পর মানুষ অনুভব করে। এটি মনের গভীর ক্ষত, যা দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের অনুভূতি, আচরণ ও চিন্তায় প্রভাব ফেলে। যে কোন সহিংস পরিস্থিতি, রাজনৈতিক বা পারিবারিক সহিংসতা শিশুদের মধ্যে ট্রমা সৃষ্টি করতে পারে। শারীরিক বা মানসিক আঘাত, যা দীর্ঘদিন শিশুর স্মৃতিতে থাকে এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না গেলে তা আজীবন শিশুকে তাড়া করে, তার জীবনে নানা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

দেশের উপর দিয়ে প্রায় এক মাস ধরে বয়ে যাওয়া সহিংস রাজনৈতিক ঘটনাবলি আমাদের শিশুরা বিভিন্ন মিডিয়ায় সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে। ফলে তাদের ট্রমায় পড়া স্বাভাবিক। এর প্রভাবে শিশুদের মধ্যে এখনই কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে কিংবা কিছুদিন পরও প্রকাশ পেতে পারে।

আসুন দেখে নেই কী কী প্রভাব পড়তে পারে:
 ১. ভয় ও আতঙ্ক: শিশুদের মধ্যে ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তারা সবসময় আশঙ্কায় থাকে, যেন কিছু খারাপ ঘটতে যাচ্ছে।

২. অবসাদ ও দুঃখ: অনেক শিশু এই ধরনের ঘটনার পর অবসাদগ্রস্ত এবং দুঃখী হয়ে পড়ে। তারা সহজে হাসি-খুশি হতে পারে না এবং কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে পারে না।

৩. রাগ ও বিরক্তি: কিছু শিশু এই ধরনের ঘটনার পর খুব রেগে যায় এবং ছোটখাটো বিষয়েও বিরক্ত হয়।

৪. স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা: ট্রমাগ্রস্ত শিশুরা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যেতে কষ্ট হয়। তারা স্কুলে মনোযোগ দিতে এবং বন্ধুদের সঙ্গে ঠিকমতো মিশতে পারে না। এমনকি সাধারণ কার্যকলাপেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

৫. সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ: শিশুর আশেপাশের ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর কারণে সমগ্র সামাজিক নৈতিক ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করতে শুরু করবে। তার অবিশ্বাস, সন্দেহ ও ক্ষোভ  বেড়ে যাবে।

৬. জীবনের লক্ষ্য ও করণীয় সম্পর্কে দ্বিধা: শিশু বিভ্রান্ত হতে পারে, তার পাঠ্যপুস্তক, তার গোটা জীবন ও অস্তিত্ব যেখানে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে তা তাদের মনোজগতে বিশাল নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রমা থেকে উত্তরণের উপায়
১. কথা বলার সুযোগ: শিশুকে কথা বলার সুযোগ দিন। তারা কী অনুভব করছে, তাদের কষ্টগুলো কী, তা শোনার চেষ্টা করুন।

২. পেশাদার সহায়তা: যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে পেশাদার মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নিন। তারা শিশুদের ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করতে পারবেন।

৩. নিয়মিত রুটিন: শিশুদের জন্য একটি নিয়মিত রুটিন তৈরি করুন। এটি তাদের নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৪. পরিবারের সহায়তা: পরিবারকে একসঙ্গে সময় কাটাতে এবং একে অপরকে সহায়তা করতে উৎসাহিত করুন। এটি শিশুর মনের ভার লাঘব করতে সাহায্য করবে।

৫. খেলা ও বিনোদন: শিশুরা খেলা এবং বিনোদনের মাধ্যমে তাদের আবেগ প্রকাশ করতে পারে। তাদের খেলা ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন।

৬. ধৈর্য ধরুন: ট্রমা থেকে সুস্থ হওয়া একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। ধৈর্য ধরে শিশুর পাশে থাকুন এবং তাদের বুঝতে সাহায্য করুন।

আপনার শিশুকে সময় দিন। ছবি: ফ্রিপিকট্রমা পরবর্তী করণীয়
যেসব অভিভাবকরা শিশুদের সাম্প্রতিক আন্দোলনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত করেছেন, তারা আবেগের বশবর্তী হয়ে করেছেন। রক্তপাত, চরম সহিংসতা তাদের মন ও মস্তিষ্কে এমন বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, যা আমাদের ধারণারও বাইরে ছিল। ভবিষ্যতে এমন কিছুতে শিশুকে সম্পৃক্ত করার আগে ভালো করে ভেবে দেখুন।

নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যারা শিশুদের প্রতি সহিংসতাকে নানাভাবে সমর্থন করেছেন, আটক, গুলি করেছেন, আদালতে নিয়ে গেছেন, বেড়ি পরিয়েছেন, দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে গেছেন, তাদের সবাইকে প্রশাসন পরিচালনায় অযোগ্য ঘোষণা ছাড়া বিকল্প নেই।

শিশুর অতীত অভিজ্ঞতাকে ভুলিয়ে দিতে হবে। তার স্মৃতিতে নতুন আনন্দময় অভিজ্ঞতার সংযোজন ঘটাতে হবে। আমাদের সবচেয়ে ভালোবাসার স্থান হচ্ছে আমাদের শিশুরা। আমাদের প্রাণের স্পন্দন, আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের শিশুরা। তাদের প্রতি সদয় হই, আগামীর বাংলাদেশ হোক শিশুবান্ধব বাংলাদেশ।

লেখক: লেখক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, ইগনাইট পাবলিকেশন্স

আরও পড়ুন:

গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৭১০। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৩১৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৯৯ হাজার ২৪৯ রোগী, যাদের মধ্যে ৯৫ হাজার ৫২৯...
জুলাইয়ের ১৬ দিনেই হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ পাওয়া রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ২০০। আর এই কদিনে রোগটির প্রাদুর্ভাবে প্রাণ গেছে ৬১ জনের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা ও ভিটামিন এ কর্মসূচি সম্পন্ন হলেও রোগের...
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত ১৯৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে মোট প্রাণহানি ৭৭৯ এবং আক্রান্ত ১৪ হাজার ১০৪ জন।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট প্রাণহানি বেড়ে ৭৭১ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে নতুন রোগী ১,০৯২ এবং ১৭২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
রাজধানীর ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দ্রুতগামী অজ্ঞাত এক গাড়ির ধাক্কায় সেকান্দার আলী নামে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
খাবার আর ওষুধসহ নানা খাতে ব্যয় বৃদ্ধিতে বিপাকে বগুড়ার মুরগির খামার ও হ্যাচারি ব্যবসায়ীরা। জেলার ৫ হাজারেরও বেশি খামার ও হ্যাচারি মধ্যে, গত ৩ বছরে বন্ধ হয়ে গেছে সাড়ে ৪ হাজার প্রতিষ্ঠান। এতে বেকার...
১১ কর্মকর্তার দায়িত্ব একজনের হাতে!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পাশাপাশি ১১ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। অফিসের করণিক,...
খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। জেলার এলজিইডি নিয়ন্ত্রণাধীন ২৮টি সড়কের ২১ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহালছড়ির মুবাছড়ি ও পানছড়ির নালকাটায়...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর