সংসারে একে অপরের মধ্যে মনোমালিন্য হতেই পারে, এ নিয়ে খুব বেশি ভাবনার দরকার নেই। তবে এই মনোমালিন্য যদি রোজ রোজ হতে থাকে, তবে সম্পর্কে বাড়তে পারে দূরত্ব। অনেক স্ত্রী রয়েছেন যারা স্বামীর সিদ্ধান্তকে খুব একটা কদর করেন না। এর উল্টোও হতে পারে। তাই পরিস্থিতি আরো খারাপ দিকে যাওয়ার আগেই সাবধান হতে হবে। জেনে নিন ঠিক কোন উপায়ে মতি ফেরাতে পারবেন।
প্রথমেই কথা বলুন
এমন সমস্যা হলে প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলুন। তা না হলে সমস্যা যেখানেই ছিল, সেখানেই রয়ে যাবে। তাই সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব তাঁর সঙ্গে এই বিষয়ে কথাবার্তা শুরু করে দিন। তাঁকে বুঝিয়ে বলুন যে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে হয় না। এতে সম্পর্ক খারাপের দিকে যায়। বরং আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাতে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। এই কথাটা বুঝিয়ে বললেই কাজ হবে। তিনি নিশ্চয় আপনার কথা শুনবেন।
কথায় যেন যুক্তিযুক্ত থাকে
কথায় যুক্তি না থাকলে, সেটি সহজে কেউ শোনে না। এমন পরিস্থিতিতে সকলেই আপনার কথা এড়িয়ে চলতে চাইবেন। এমনকি আপনার প্রিয় মানুষটিও সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা করবেন না। তাই এবার থেকে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর আগে নিজের সপক্ষে যুক্তি দাড় করিয়ে কথা বলুন। তারপর তাঁর সামনে সেই যুক্তি তুলে ধরুন। তাহলে দেখবেন তিনি ঠিকই আপনার সব কথা মেনে নেবেন।
ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করুন
আপনি হয়তো তাঁর সব কথা খুব সহজেই মেনে নেন। তাই তিনি আজ আপনার সব সিদ্ধান্ত ফেলে দিতে পারছেন। এবার থেকে তাঁর কোনও সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে তাঁকে তা বুঝিয়ে বলুন। অবশ্যই যুক্তি দিয়ে বলবেন। তাকে বোঝান কেন তার সিদ্ধান্ত আপনি মেনে নিতে পারছেন না। তবে এই কথা বলতে গিয়ে আবার মুখ কালাকালি করে ফেলবেন না। তাই খুবই নরম ভাষায় কথা বলুন। তাহলেই দেখবেন প্রিয়জনের মতি ফিরবে।
ঘুচিয়ে নিন দূরত্ব
অনেক সময় সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হলে একে অপরের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেন না। তাই আপনার সব কথাই যদি সে ফেলে দেয়, তাহলে সম্পর্কের দিকে মুখ ফেরান। তাঁকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিন। পারলে দুজনে মিলে কোথাও ঘুরে আসুন। তাহলে আপনাদের সম্পর্ক আরও পোক্ত হবে। দেখবেন প্রিয় মানুষটি আপনার সিদ্ধান্তও মেনে নেবেন। সম্পর্কে বয়ে যাবে বসন্তের হাওয়া।
পরামর্শ নিন বিশেষজ্ঞের
অনেক সময় শত চেষ্টা করার পরও প্রিয় মানুষটির মন পরিবর্তন করা যায় না। সেক্ষেত্রে সম্পর্কের ভালো চাইলে যত দ্রুত সম্ভব ম্যারেজ কাউন্সিলরের কাছে যেতে পারেন। আপনাদের মধ্যে ঠিক কেমন ধরনের সমস্যা হচ্ছে, তা খুলে বলুন। তারপর তিনি যে পরামর্শ দেবেন, তা মেনে চলতে হবে। দেখবেন পরিস্থিতি অনেকটাই হাতের নাগালে চলে এসেছে। আপনার সিদ্ধান্তকে ফেলে দেবে না। আপনার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।



