ঢাকার মাইডাস সেন্টারে চলছে দুইদিনব্যাপী ‘আনন্দ উঠান’। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্যের পশরা সাজিয়েছে এই মেলার মাধ্যমে। দ্বিতীয়বারের মতো এই আয়োজনে বৈচিত্র্যময় পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন ৩২ জন দেশীয় উদ্যোক্তা। সকালেই মেলা প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছে ক্রেতা এবং দর্শনার্থীরা। শুধু কেনাকাটা নয়, আড্ডার অন্যতম স্থানে পরিণত হয়েছে এই ‘আনন্দ উঠান’।
এবারের ‘আনন্দ উঠান’ এ অংশগ্রহণ করেছে পটের বিবি, শাড়িকথন, সুতলি, তেরো পার্বণ, ঋ, মল্লিকা, কালিন্দী, দেশী বুনন, গথিয়া, মিথ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটস, পোশাক বাই তাননাস, নয়া, খুঁত, বাঙুরি, আরুনিকা, ক্যানভাস, এনস কিচেন, বিজেন্স, তানিস বাংলাদেশ, আর্টেমিস, অন্দর, বোকা বাক্স, দয়ীতা, রংধনু ক্রিয়েশনস, মিন্ডালা ডট কম, দীঘল, আঁচারি, শখের ডিব্বা, আটকুঠুরি নয় দরজা, সম্পূর্ণা, চিয়ারি শেফ, দিশাস রোডব্লক আর পৌরাণিক।

ন্যাচারাল ডাই, ব্লক প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্টের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী জামদানি, তাঁতের শাড়ি ও হাতের কাজের বিভিন্ন পোশাক দেখা গেছে মেলায়। পোশাকের পাশাপাশি মিলছে হাতে তৈরি গয়না, ভেষজ পণ্য, চামড়ার ব্যাগ, রিকশা পেইন্টে আঁকা ঘর সাজানোর সামগ্রী, বোর্ডগেমের মতো খেলাধুলার উপকরণও। আরও রয়েছে হরেক রকম খাবারের উদ্যোগ।
এ প্রসঙ্গে আনন্দ উঠানে অংশগ্রহণকারী ফ্যাশন হাউস দয়িতার কর্ণধার সাঈদা সুলতানা মিলি বলেন, ‘আমরা যারা উদ্যোক্তা তাঁরা গত তিনটা মাস ধরে দেশের পরিবর্তনের কারণে টানা ভোগান্তিতে আছি। এ সময় অনেককে সংসারের খরচে তাদের পুঁজিটাও ভেঙ্গে ফেলতে হয়েছে। আবার এমন কেউ আছে, যাদের হয়তোবা অনেক কর্মচারী, বা একাধিক শোরুম। বিক্রি হোক বা না হোক, তাদের তো পে’ করতেই হয়।’
মেলায় ক্রেতাদের দারুণ সাড়া পাচ্ছেন বলে জানালেন সুলতানা মিলি। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা মেলায় প্রবেশের আগে থেকেই দর্শনার্থীরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করে ছিলেন। এটা আমাদের জন্য একটা আশীর্বাদ।’
মেলায় কথা হলো শান্তা ইসলামের সঙ্গে। পেশায় শিক্ষিকা এই ক্রেতা বলেন, ‘মাইডাসের এই মেলার জন্য আমরা সারা বছরই অপেক্ষা করে থাকি। এখানে তিরিশের বেশি উদ্যোক্তা এসে একত্রিত হয়েছেন। আমি সবার পণ্য ঘুরে দেখবো। দীর্ঘদিন অনলাইন মাধ্যম নিয়ে যে সঙ্কট ছিল আশা করছি এই মেলার মাধ্যমে সবকিছু আবার রিভাইভ হয়ে উঠবে।’
নিজের জন্য কানের দুল পছন্দ করছিলেন গৃহিণী তিথি জাহান। অনলাইন ফ্যাশন হাউস ‘সম্পূর্ণা’ পেইজ থেকে তিনি জানতে পারেন এই উদ্যোগের কথা। তিনি বলেন, ‘এক জায়গায় অনেক কিছু পাওয়া যায়, এজন্যই এখানে এলে ভালো লাগে।’
১৪ সেপ্টেম্বর মেলার সমাপনী দিন। চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।



