প্রত্যেকের ঘরেই এমন অনেক সামগ্রী থাকে, যা কার্যত কোনো কাজে আসে না। বরং বিভিন্ন কোণে জমে থেকে এসব জিনিসপত্র ঘরকে অপরিচ্ছন্ন করে তোলে। এসব সামগ্রী আলাদা করে সরিয়ে ফেললেই ঘরটা হালকা এবং প্রশান্তিময় হয়ে উঠতে পারে। ইংরেজিতে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'ডিক্লাটার'।
কিন্তু আলসেমির জন্য আমাদের অনেকেরই ডিক্লাটারিংয়ে ব্যয় করার মতো সময় হয়ে ওঠে না। দেখা যায়, সময় লাগবে এই ভয়ে মাসের পর মাস গোছগাছ শুরুই করেন না।
এভাবে যারা প্রয়োজনীয় কাজ ফেলে রাখেন বা গড়িমসি করেন, তাঁদের জন্য ঘর পরিষ্কার করার একটি কার্যকর উপায় হলো ১০-১০-১০ পদ্ধতি।
১০-১০-১০ পদ্ধতি কী
এটি আসলে খুবই সহজ একটি পদ্ধতি। দশ মিনিটে আপনার ঘরের দশ স্থানে থাকা দশটি অপ্রয়োজনীয় বস্তু সরিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এই বস্তুগুলো ঘরের যেকোনো কিছুই হতে পারে।
প্রতিদিন সময় না পেলে মাসে অন্তত একটা দিন রাখুন, যেদিন ঘর থেকে একে একে সব অপ্রয়োজনীয় জিনিস বের করে দিবেন। ফলে ১০-১০-১০ পদ্ধতিতে প্রতি মাসে অন্তত দশটির মতো সামগ্রী আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের স্তূপ থেকে সরবে।
নতুন কোনো অতিথি এলে আপনি আপনার ঘরটিকে যেভাবে উপস্থাপন করবেন, সেভাবেই নিজের পুরো বাড়িতে একবার হেঁটে আসুন। হাতে রাখুন নোটবুক। এ সময় বইয়ের ভারে প্রায় বেঁকে যাওয়া বুকশেলফ বা কাপড়ের বোঝায় উপচেপড়া আলমারিটির তালিকা করে রাখুন।
তালিকা সমাপ্ত হয়ে গেলে তিনটি ভাগে সবকিছুকে ভাগ করে নিন। আপনি হয়ত শাড়ি পরতে স্বচ্ছন্দ্য নন; কিন্তু জন্মদিনে প্রিয় মানুষের উপহার দেওয়া শাড়িটি ভুলেও ডিক্লাটার করতে যাবেন না যেন। প্রয়োজনে না এলেও উপহার এবং স্মৃতিবাহী সামগ্রীগুলো একটি ভাগে রাখুন।
অনেকেই আছেন যারা কিছুদিন পরপর নতুন পোশাক কিনে থাকেন। এতে পুরনো পোশাক পড়ে থাকে অযত্নে, অবহেলায়। পরিধানের যোগ্য থাকা অবস্থায়ই এসব পোশাক ডোনেট (দান) করে দেওয়া উচিত। এ ছাড়া আজকাল ফেসবুকে অনেক গ্রুপ রয়েছে যেখানে পুরোনো পোশাক থেকে শুরু করে বই, আসবাবপত্র, ইনডোর প্ল্যান্টস, শোপিস সবই রি-সেল করা যায়। ডিক্লাটারিং লিস্টের দ্বিতীয় ভাগে এমন সামগ্রীই রাখুন যা দান বা পুনরায় বিক্রয় করা যাবে।
একদম শেষে থাকুক সেসব পণ্য যার মেয়াদ ইতিমধ্যে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এগুলো ঘরে রাখা মানে জঞ্জাল বাড়ানো। ছেঁড়াফাটা পোশাক, পুরনো অন্তর্বাস, টাইট বা ঢোলা জিন্স, রঙচটা তৈজসপত্র, মরচে ধরে যাওয়া যন্ত্রপাতি, ভাঙা টব, হ্যাঙ্গার, বছরের পর বছর জমা হওয়া মেডিকেল রিপোর্ট এ তালিকার মধ্যে পড়ে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, কান্ট্রি লিভিং


পাঁচতারকা হোটেলের মতো সাজান নিজের ঘর
ঘর থাকুক পরিপাটি আর ঝকঝকে
ছোট ঘর, অনেক জিনিসপত্র, কী করবেন?
