টাপুর আর টুটুলের (ছদ্মনাম) সম্পর্ক প্রায় দুই বছরের। টুটুলের পরিবার, বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে কলেজের শিক্ষকেরা পর্যন্ত টাপুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা জানেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুগল ছবি দিয়ে বন্ধুদের কাছ থেকে ‘লাভ রিয়েক্ট’ পেতেও দারুণ লাগে টুটুলের।
অন্যদিকে টাপুরের ‘শো অফ’ একদমই পছন্দ নয়। জনসমক্ষে নিজের সম্পর্ক বা সঙ্গী সম্পর্কে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না তিনি। ‘সম্পর্ক তো অস্বীকার করছি না, তাই বলে এটা সবাইকে ঘোষণা দিয়ে জানানোর কী আছে!’, টাপুরের ভাবনা অনেকটা এমনই। কিন্তু তাঁর এ আচরণ কি স্বাভাবিক?
সম্পর্কের ক্ষেত্রে টাপুরের এমন আচরণকে বলা হয় ‘পকেটিং’ করা। আক্ষরিক অর্থে, পকেটিং অর্থ হলো কোনোকিছু পকেটে পু্রে রাখা। প্রেমের সম্পর্কেও দেখা যায়, যে ব্যক্তি পকেটিং করছেন, তিনি সঙ্গীকে নিজের বন্ধু, পরিবারসহ সবার কাছ থেকে একপ্রকার পকেটে ঢুকিয়ে রাখছেন বা আড়াল করে রাখছেন।
স্কুল-কলেজে, অফিসে কিংবা কাজিনদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠলে পকেটিং রিলেশনশিপ-এর প্রবণতা বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ দু’জন মানুষ প্রেম চালিয়ে যান ঠিকই, কিন্তু তা সবার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখেন।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্ক যখন এগোতে থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই উভয় পক্ষ আশা করেন যে তারা একে অন্যের পরিচিত পরিসরে যুক্ত হবেন। এটি সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের প্রথম সংকেত।
ক্ষেত্র বিশেষে প্রেমের সম্পর্কের কথা সবাইকে না জানানোর মধ্যেও অনেক লাভ থাকতে পারে। এমরান কবির এবং সোনিয়া বুশরা (ছদ্মনাম) যেমন অনেকটা পরিকল্পনা করেই নিজেদের ছয় বছরের সম্পর্কের কথা গোপন রেখেছিলেন। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে চাকরিতে ঢুকে তবেই দুই পরিবারের কাছে নিজেদের কথা খুলে বলেন তাঁরা।
‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে নিজেদের সম্পর্কের কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যত কম প্রকাশ পাবে বা আত্মীয়-স্বজন যত কম জানবে, ততই মঙ্গল। কারণ, এ ক্ষেত্রে সম্পর্কে বাধাও কম আসবে। আমরা আমাদের সম্পর্ককে নিজেদের মতো করে এগোতে দিয়েছি। আমাদের মতো আমাদের সম্পর্কটাও ম্যাচিউরড হয়েছে। এরপরেই আমরা পরিবারের কাছে সব প্রকাশ করেছি’, বলেন এমরান ও বুশরা।
নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সম্পর্কের কথা খুব বেশি প্রচার না করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু দীর্ঘ একটা সময় পার হওয়ার পরও যদি সঙ্গী আপনাকে তাঁর জগত থেকে লুকিয়ে রাখে,ন তাহলে সেটি কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ হতে পারে না।
সঙ্গী পকেটিং করছে কিনা তা বোঝার রয়েছে আরও কিছু লক্ষণ-
- পরিচিতদের উপস্থিতি নেই, এমন নির্জন স্থানে আপনাদের দেখা হয়ে থাকে! বন্ধুদের সঙ্গে মিলে কোথাও ঘুরতে বা দেখা করতে চাইলে তিনি সব সময় মানা করে দেন।
- তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার অস্তিত্বের কোনো চিহ্ন নেই। আপনাকে কোনো ছবিতে ট্যাগ দেওয়া হয় না, নেই দৃশ্যমান লাইক-কমেন্ট! দীর্ঘদিন সম্পর্কে থাকার পরও তাঁর রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস হয় নেই অথবা ‘সিঙ্গেল’।
- তার পরিবার বা পরিচিত বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আপনাকে কখনও পরিচয় করে দেওয়া হয় না।
- জনসমক্ষে আপনার সঙ্গে অপরিচিতের মতো ব্যবহার করা হয়। অন্যের সামনে আপনার হাত ধরতেও তাঁর মধ্যে সংকোচ কাজ করে।
- ছুটিতে ঘোরার পরিকল্পনা হোক কিংবা ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা- তাঁর কোনো কিছুতেই আপনার উল্লেখ থাকে না!
কিন্তু কেউ কেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পকেটিং করে? সব সময় কি খারাপ উদ্দেশ্য থেকেই সঙ্গী এমন আচরণ বেছে নেন!

আসলে অনেকেই রয়েছেন, যারা ‘কমিটেড’ বা একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে যেতে ভয় পান। সম্পর্ক কতদূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সে অনিশ্চয়তা থেকে অনেকেই পকেটিং করে থাকেন।
আবার এমনও অনেকে আছেন যারা বন্ধু বা পরিবারের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলেন। আর্থ-সামাজিক অবস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ধর্মীয় বৈসাদৃশ্য ইত্যাদি কারণে তাঁর পছন্দের মানুষকে পরিবার মেনে নাও নিতে পারে, এমন ভয় কাজ করে থাকে তখন। ফলে তাঁরা সম্পর্কের কথা প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন।
তবে পকেটিং সবচেয়ে খারাপ রূপ নেয় তখন, যখন ব্যক্তি একাধিক সম্পর্কে আসক্ত থাকে। বাস্তব জীবনে এর ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। তাই সঙ্গীর পকেটিং যদি আপনার মনঃপীড়ার কারণ হয়, তাহলে দ্রুত তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসুন।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, নিউজ এইটিন


জীবনে সিঙ্গেল হলে পাবেন যে সুবিধাগুলো
প্রথম দেখাতেই প্রেম! কতটা ঠিক বা ভুল করছেন
