গত ৫ আগস্ট প্রত্যাশিত ফল মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। বহুল আলোচিত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩১২-২২৬ ব্যবধানে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে।
প্রত্যাশিত ফল কেন?
ডেমোক্র্যাটদের প্রথম পছন্দ কমলা না হওয়া, শুধুমাত্র জো বাইডেনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তাঁকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়া, বাইডেনের সময়ে দুটি ভিন্ন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়া, সে যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় সাধারণ করদাতার ঘাড়ে পড়া, মূল্যস্ফীতি- এর কোনো কারণই ডেমোক্রেটদের হারকে অবশ্যম্ভাবী বলে উপস্থাপন করেনি।
এর একটিই কারণ; যে কারণটা ২০১৬ এর নির্বাচনে সকল পূর্বানুমানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ট্রাম্পকে জয়ী বানিয়ে দিয়েছিল। সেবার ডেমোক্রেটদের প্রার্থী ছিলেন হিলারি ক্লিনটন, এবার কমলা হ্যারিস। দুটি নির্বাচন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে যত কথাই বলা হোক না কেন, আমেরিকা নিজেদের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে একজন নারীকে গ্রহণ করতে এখনো প্রস্তুত নয়।
এ পর্যন্ত ৪৭জন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পেয়েছে আমেরিকা। এর কেউই নারী নন। শুধু নির্বাচনের ফল ধরে এত বড় রায় দিয়ে দেওয়াটা বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। কিন্তু ১৭৮৮ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা একটি দেশের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পেতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করাটাই একটি বড় ইঙ্গিত।
শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও যদি আলোচনা আটকে না রাখা হয়, ২০২০ সালে কমলা হ্যারিসের আগে দেশটি কোনো নারীকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও পায়নি-এটা কীসের ইঙ্গিত দেয়?

যুক্তরাষ্ট্র একা নয়
নারীদের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বসানোতে অনাগ্রহ শুধু আমেরিকা দেখায়, এমন না। বরং বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটাই বাস্তবতা।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির (জিডিপির দিক থেকে) ২০ দেশের মধ্যে আটটি দেশ কখনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কোনো নারীকে নির্বাচন করেনি। যারা করেছে, তাদের ক্ষেত্রেও সংখ্যাটি মাত্র দুটি দেশের ক্ষেত্রে একাধিক।
সুইজারল্যান্ড সর্বোচ্চ ছয়জন নারীকে সরকারপ্রধান করেছে। আর যুক্তরাজ্য করেছে তিনবার। এর মধ্যে লিজ ট্রাস ২০২২ সালে মাত্র দেড় মাসের জন্য ক্ষমতায় ছিলেন। কানাডার মতো দেশও মাত্র একবার একজন নারী সরকার প্রধান পেয়েছে, যিনি মাত্র চার মাস ক্ষমতায় ছিলেন।
রাশিয়া, জাপান, ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডসের মতো উন্নত বিশ্বের অংশীদার দেশগুলো কখনো কোনো নারী সরকারপ্রধান পায়নি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের অধিকাংশ দেশ নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সচেতন হয়েছে, এই সময়ে জাপান ৩৮জন রাষ্ট্রপ্রধান বেছে নিয়েছে, কিন্তু তাদের একজনও নারী নয়। রাশিয়া বিশ্বযুদ্ধের আগে-পরে পেয়েছে ১৮জন সরকারপ্রধান, তাদের কেউই নারী নন।
ফ্রান্সে ২৫ জন সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন, সবাই পুরুষ। ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়াতে যথাক্রমে ৩৭ ও ৩১ জন সরকার প্রধানের মাত্র একজন করে নারী ছিলেন। শতাংশের হিসেবে যা ৩% এর কাছাকাছি। শুধু জার্মানি এ ক্ষেত্রে দুই অংকে (১১.১১%) যেতে পেরেছে।
যদি সামরিক শক্তির দিক থেকে প্রভাবশালী দেশ বিবেচনা করা হয়, সেক্ষেত্রে শীর্ষে থাকা ২০ দেশের মধ্যে নয়টি দেশ কখনো নারী নেতৃত্ব পায়নি। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, স্পেন ও জাপানের মতো দেশগুলো দুই তালিকাতেই আছে বলে সংখ্যাটি কাছাকাছি। আবার এটাও সত্যি যে চীন ও ভারতের মতো একজন হলেও নারী নেতৃত্ব পাওয়া দেশও দুই তালিকাতেই আছে।
এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, শুধু যুক্তরাজ্য ছাড়া বাকি ১০ টি দেশই মাত্র একজন নারীকে সরকার প্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে ভারতে সর্বশেষ কোনো নারী সরকারপ্রধান ছিলেন ১৯৮৪ সালে, চীনে যা ১৯৭৮। ইসরায়েলের ক্ষেত্রে ১৯৭৪ই সর্বশেষ নারীর ক্ষমতার শীর্ষে থাকার বছর, পাকিস্তান সর্বশেষ কোনো নারীকে সরকার প্রধান হিসেবে পেয়েছে ১৯৯৬ সালে। তবে জার্মানিতে মাত্র একজন নারী- অ্যাঞ্জেলা মার্কেল টানা ১৬ বছর চ্যান্সেলর হিসেবে সরকার প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

সামরিক শক্তিতে শীর্ষ ২০-এ থাকা দেশগুলোর মধ্যে শুধু ইতালিতেই বর্তমানে কোনো নারী ক্ষমতায় আছেন। ২০২২ সালে ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন জর্জিয়া মেলোনি।
আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ২০টি দেশের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, অর্ধেক রাষ্ট্রই কখনো নারী নেতৃত্ব পায়নি। এক্ষেত্রে আরব রাষ্ট্র যেমন আছে, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বও আছে। আছে গ্রিনল্যান্ডের মতো দেশও। শুধু দুটি দেশ-আর্জেন্টিনা ও ডেনমার্কে দুজন নারী সরকার প্রধান হয়েছেন। মেক্সিকো ৬৫ জন পুরুষ সরকারপ্রধানের পর অবশেষে ২০২৪ সালের অক্টোবরে একজন নারীকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। ওদিকে মঙ্গোলিয়ার সর্বশেষ নারী সরকারপ্রধান ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৫৪ সালে।
প্রভাবশালী দেশের তালিকা করতে চাইলে জনসংখ্যাকেও গুরুত্ব দিতে হয়। জনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়েই চীন ও ভারত অর্থনীতিতে পরাশক্তি হয়ে উঠেছে। বিস্ময়করভাবে বিশ্বের ২০টি জনবহুল দেশের তালিকা দেখলেও দেখা যাচ্ছে ফলাফল প্রায় অভিন্ন। এক্ষেত্রেও ৯টি দেশ কখনো নারী নেতৃত্ব পায়নি।
অথচ এই তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত, চীন, পাকিস্তান, মেক্সিকো ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলো আছে। ইরান বা মিসরে কখনো নারী নেতৃত্ব না পাওয়ার কারণটি অনুধাবিত। কিন্তু কঙ্গো, ভিয়েতনাম ও তুরস্কের মতো দেশেও কখনো কোনো নারী সরকারপ্রধান হতে পারেননি।
চারটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট বিবেচনা করার পর দেখা যাচ্ছে সবক্ষেত্রে কখনোই নারী নেতৃত্ব না পাওয়া দেশের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি। এবং যেসব দেশ কখনো না কখনো নারী নেতৃত্ব দিয়েছে, সেক্ষেত্রেও সংখ্যাটি প্রায় নগণ্য। চারটি ক্ষেত্রে ৮০টি নমুনার মধ্যে মাত্র ৫টি নমুনার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের বেশি নারী নেতৃত্ব পাওয়া গেছে।
সহজ ভাষায়, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, এশিয়া, ইউরোপ বা আফ্রিকা- সব মহাদেশেই নারীদের সরকার প্রধান হিসেবে মেনে নিতে প্রবল অনাগ্রহ। এবং সেটা শক্তিধর দেশগুলোর ক্ষেত্রেই বেশি।
দায় আছে জাতিসংঘেরও
নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতা নিয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখার কথা জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর। কিন্তু জাতিসংঘের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের তিনটিই কখনো নারী নেতৃত্ব পায়নি। অবশ্য এটাও ঠিক, মূল সদস্যদের রাজনৈতিক চিন্তায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই জাতিসংঘের। কিন্তু নিজেদের অঙ্গসংগঠনের ক্ষেত্রেও তারা সমতা দেখাতে পারেনি।
জাতিসংঘ এখনো পর্যন্ত ১০ জন মহাসচিব পেয়েছে। এদের কেউ নারী নন। আর জাতিসংঘের অধীনে আছে আরও ১৬টি অঙ্গসংগঠন। এই ১৬টি সংগঠনের মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে কখনো কোনো নারী নিয়োগ পাননি। বাকি যে সাতটি প্রতিষ্ঠান আছে, এর মধ্যে চারটিতে দুবার নিয়োগ পেয়েছেন কোনো নারী। কোনো সংগঠনে এখনো পর্যন্ত দুজনের বেশি নারীকে শীর্ষ পদ দেওয়া হয়নি।

কেন জরুরি
নারী নেতৃত্ব দ্বিদলীয়, সমতা ও স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব রাখে। এটাও দেখা গেছে, আইনপ্রণেতাদের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নারী হলে তাঁরা প্রচলিত নিয়ম ও নীতিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। এটাও দেখা গেছে, দেশের প্রয়োজনে নিজ রাজনৈতিক দলকে প্রাধান্য না দিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে নারীদেরই এগিয়ে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পুরুষদের চেয়ে নারী আইনপ্রণেতাদেরই নতুন আইন পাশে আগ্রহী দেখা গেছে।
ক্ষমতায় নারীদের অংশগ্রহণ সমাজে সমতা আনতে প্রভাব ফেলে, শিক্ষাখাতে ব্যয়ের প্রবণতা বাড়ে, স্বাস্থ্যখাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। পরিবেশ নিয়ে কাজেও নারীদের অংশগ্রহণ বেশি। করোনাকালে নারী নেতৃত্বাধীন দেশগুলোই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছিল। এটাও দেখা গেছে আন্তর্জাতিক সংকটকালে নারী নেতৃত্ব থাকলে সহিংসতার সম্ভাবনা ৫ শতাংশ কমে যায়।
অনন্য বাংলাদেশ
বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় কখনো রাষ্ট্রপতি, কখনো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নির্বাচিত সরকার বা সেনা-শাসিত সরকারের বাইরেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে বেশ কয়েকজন দায়িত্ব নিয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকার শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর বা নির্বাচন আয়োজন নিয়েই ব্যস্ত ছিল।
তবে ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ প্রায় দুই বছর মেয়াদে ছিলেন, বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসও জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব পালনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না।

এ দুজনকে তাই বাংলাদেশের সরকার প্রধানদের তালিকায় ধরতে হচ্ছে। এবং সে অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত ১১জন ব্যক্তি বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিলেন। এদের মধ্যে দুজন নারী। অর্থাৎ সরকারপ্রধানদের ১৮.১৮% নারী। এটাই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশকে অনেক এগিয়ে রাখে।
আরেকটু বিস্তারিত দেখলে, স্বাধীন বাংলাদেশে ৫৩ বছরের মধ্যে ৩০ বছরই নারী নেতৃত্ব সরকার প্রধানের ভূমিকায় ছিলেন। অর্থাৎ একটি দেশের ক্ষমতায় ৫৬.৬০% সময়ই কোনো না কোনো নারী ছিলেন। বিশ্ব রাজনীতিতে এমনটা অভাবনীয়।
কোন কোন দেশে চলছে নারী নেতৃত্ব
জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে নজর দিলে দেখা যায় মোট ২৬জন নারী প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট পদে আছেন। তবে অধিকাংশ দেশেই এ দুটি পদের যেকোনো একটি পদ মূলত আলঙ্কারিক। যেমন ভারতের প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু, কিন্তু এটা তো অনস্বীকার্য যে ভারতের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নরেন্দ্র মোদী।
ঠিক তেমনি গত এপ্রিলে প্রথম নারী হিসেবে কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন জুডিথ সুমিনওয়া তুলুকা। কিন্তু দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী নয়, প্রেসিডেন্টই মূল ক্ষমতার অধিকারী। তবে ইউরোপের অনেক দেশের মতো কঙ্গোতে পুরোপুরি আলঙ্কারিক নয় এই পদটি।
আলঙ্কারিক নয়, এমন পদ যদি হিসেব করা হয়, তবে বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্য এমন দেশগুলোর মধ্যে মাত্র ১৫টি দেশেই নেতৃত্বে নারী আছেন। এর মধ্যে বার্বাডোজে একটু অনন্য। দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী- দুজনই নারী।
গত আগস্টে বাংলাদেশের ক্ষমতা থেকে শেখ হাসিনাকে সরে যেতে হওয়ায় সংখ্যাটি ১৪ হয়ে গিয়েছিল। তবে গত ১ অক্টোবর মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ক্লদিয়া শেইনবম।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীদের ক্ষমতায় বসতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু খুব কম দেশই একাধিকবার নারীকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার কোনো নারীকে সরকার প্রধান করেছে সুইজারল্যান্ড।
মোট ছয়জন নারী নয়বার সুইজারল্যান্ডের ক্ষমতায় বসেছেন। তবে সুইজারল্যান্ডের নিয়মও এতে প্রভাব রেখেছে। দেশটিতে প্রতিবছর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এরপর আছে ফিনল্যান্ড। দেশটিতে তিনজন নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন। তবে তিনজনের মেয়াদ পাঁচ বছরেরও কম ছিল।
আইনসভায় নারীর অংশীদারিত্ব কেমন
শুধু সরকারপ্রধানের দায়িত্বেই নয়, আইনসভাতেও নারী প্রতিনিধি নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর অনাগ্রহ বেশ লক্ষণীয়। যুক্তরাষ্ট্রে আইনসভা দুই কক্ষবিশিষ্ট। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনের তথ্য অনুযায়ী, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ বা নিম্ন-কক্ষে নারী প্রতিনিধির সংখ্যা ৩০ শতাংশের কম (২৯.৪%), আর সিনেটে তা মাত্র ২৫%।
রাশিয়াতে যা যথাক্রমে ১৬.৪% ও ১৮.৯%। আইরন লেডি মার্গারেট থ্যাচারের যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত তিনজন নারী প্রধানমন্ত্রী উপহার দিলেও আইনসভাতে এখনো নারী প্রতিনিধির সংখ্যা পুরুষের তুলনায় অনেক কম। হাউজ অব কমন (নিম্ন-কক্ষ)-এ নারীর প্রতিনিধিত্ব ৩৪.৮%, আর হাউজ অব লর্ডসে (উচ্চ-কক্ষ)-এ ২৯%।
এক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স একটু এগিয়ে আছে। সবগুলো দেশেই উচ্চ-কক্ষে নারী প্রতিনিধিত্ব ৩৫.৫ শতাংশের বেশি।
জাতিসংঘের সদস্য এমন মাত্র ৮টি দেশে নিম্ন কক্ষে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি নারী প্রতিনিধি আছে। আর উচ্চ-কক্ষের ক্ষেত্রে তা মাত্র ৫টি। এর মধ্যে শুধু মেক্সিকোতেই দুই কক্ষেই পঞ্চাশ ভাগের বেশি নারী প্রতিনিধি। উচ্চ-কক্ষে নারী প্রতিনিধিত্বে সবচেয়ে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া (৫৬.৬%), এরপরই আছে কানাডা (৫৫.৭%)।



