মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ: কারণ, ঝুঁকি এবং প্রতিরোধে যা যা করণীয়

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:২৩ এএম

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ (Brain Hemorrhage) অত্যন্ত গুরুতর একটি স্বাস্থ্য সমস্যা, যা যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে এবং রোগীর জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। আমরা প্রায়ই শুনে থাকি যে, আমাদের পরিচিত কেউ হঠাৎ করে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অনেকেই জানেন না কেন এটি ঘটে এবং কীভাবে এ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণ

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের প্রধান কারণ হলো রক্তনালির ফেটে যাওয়া, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। প্রধান কারণগুলো হলো:

১. উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension): অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে এগুলো ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

২. মাথায় আঘাত: দুর্ঘটনা বা চোটের ফলে রক্তনালি ছিঁড়ে যেতে পারে, যা রক্তক্ষরণের অন্যতম বড় কারণ।

৩. জন্মগত রক্তনালির ত্রুটি: কারো কারো জন্মগতভাবে রক্তনালিতে গঠনগত সমস্যা থাকতে পারে, যেমন অস্বাভাবিক কুন্ডলীযুক্ত রক্তনালি, যা ফেটে রক্তক্ষরণের কারণ হতে পারে।

৪. অ্যানিউরিজম (Aneurysm): মস্তিষ্কের রক্তনালিতে যদি দুর্বলতা থাকে, তাহলে সেখানে বেলুনের মতো ফুলে যেতে পারে, যা হঠাৎ ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে।

৫. ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ: নিয়মিত ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ রক্তনালিগুলোর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে, যা উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।

৬. স্ট্রেস এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা: অতিরিক্ত মানসিক চাপ, রাতজাগা, এবং অনিয়মিত খাবার গ্রহণের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়, যা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

৭. ড্রাগ ব্যবহার: কিছু উত্তেজক ওষুধ বা অবৈধ মাদকদ্রব্য গ্রহণ রক্তচাপ দ্রুত বৃদ্ধি করে এবং রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে।

৮. ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য রোগ: দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগ থাকলে মস্তিষ্কের রক্তনালির গঠন দুর্বল হয়ে যেতে পারে, যা রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা বাড়ায়।

কারা মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে ঝুঁকিপূর্ণ

১. উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এমন ব্যক্তিরা।

২. যারা নিয়মিত ধূমপান বা অ্যালকোহল সেবন করেন।

৩. যারা অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের মধ্যে থাকেন।

৪. যাদের পরিবারে আগে থেকে স্ট্রোক বা মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের ইতিহাস আছে।

৫. বয়স্ক ব্যক্তিরা, বিশেষ করে যাদের রক্তনালীগুলোর স্থিতিস্থাপকতা কমে গেছে।

৬. যারা অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন বা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না।

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের লক্ষণ

যদি হঠাৎ করে কেউ নিম্নলিখিত উপসর্গ অনুভব করেন, তাহলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরি:

১. হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা।

২. দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।

৩. শরীরের কোনো একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা দুর্বল লাগা।

৪. কথা বলার সমস্যা বা জড়তা।

৫. ভারসাম্য হারানো।

৬. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমানোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে:

১. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করা এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করা উচিত।

২. ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার: এসব বদভ্যাস ত্যাগ করলে রক্তনালির সুস্থতা বজায় থাকে।

৩. সঠিক খাদ্যাভ্যাস: প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল এবং কম চর্বিযুক্ত খাবার খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৪. নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করলে রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

৫. স্ট্রেস কমানো: ধ্যান, যোগব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অবসর কাটানোর মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো যায়।

৬. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য নিয়মিত ব্লাড প্রেসার, সুগার এবং কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

৭. পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন, কারণ অনিদ্রা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

৮. ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া: যদি পরিবারে স্ট্রোক বা রক্তক্ষরণের ইতিহাস থাকে, তবে আগে থেকেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা

যদি মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে, তাহলে কিছু উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে:

১. ব্রেন এনজিওগ্রাম: মস্তিষ্কের রক্তনালির অবস্থা পরীক্ষা করতে এটি করা হয়।

২. সার্জারি: কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রক্তক্ষরণের স্থান বন্ধ করা হয়।

৩. কয়েলিং বা গ্লু দেওয়া: যদি রক্তনালীতে অ্যানিউরিজম থাকে, তবে কয়েলিং বা গ্লু ব্যবহার করে সেটি বন্ধ করা যেতে পারে।

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, তবে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুস্থ জীবনযাত্রা, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলার মাধ্যমে আমরা এই বিপজ্জনক সমস্যার হাত থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারি।

লেখক: মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড এবং স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক (নিউরো মেডিসিন), ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট প্রাণ গেছে ১১১ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৫২ জন। 
দেশে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যুতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। 
হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৫৯ জনের শরীরে। এছাড়া নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭২ জন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য...
আগস্টে আবারও ভয়াবহ রুপে ফিরেছে ডেঙ্গু। এক মাসেই ভেঙে গেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় বছরের সব রেকর্ড। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৩৫ হাজারের বেশি, যার মধ্যে শুধু আগস্টেই আক্রান্ত সাড়ে...
পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের বরফ গলার প্রভাব ধীরে ধীরে বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বিশাল বরফস্তরে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের...
বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে আয়ারল্যান্ডে দাঁড়িয়ে যখন কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কোথা থেকে এসেছেন?’ আমি গর্ব করেই বলি, ‘বাংলাদেশ।’ এরপর প্রায়ই আরেকটি প্রশ্ন আসে, ‘বাংলাদেশি কয়েকটি...
চলতি মাসের শেষদিকে দেশব্যাপী হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ইতোমধ্যে রাঙামাটি, বান্দরবান ছাড়া দেশের সব জেলায় হামের...
প্রকাশ পেল নির্মাতা রায়হান রাফীর মুক্তি প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘আন্ধার’-এর একঝলক। যেখানে নজর কেড়েছেন অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ও নাজিফা তুষি। এর আগে, প্রকাশ পেয়েছিল এ সিনেমার অভিনয়শিল্পীদের ফার্স্টলুক, যা...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর