সিনেমা হলের পর্দায় তখন ‘ফাইনাল ডেস্টিনেশন ব্লাডলাইনস’। দর্শকভর্তি সেই থিয়েটারে হঠাৎ ঘটল অঘটন। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল সিলিং। ফাইনাল ডেস্টিনেশনের কাহিনী যেন বাস্তবে রূপ নিল! সিনেমাটিতেও দেখা যায় একের পর এক দুর্ঘটনা। এবার তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী হলেন আর্জেন্টাইনরা।
গত ১৯ মে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশের রাজধানী লা প্লেটায় একটি সিনেমা হলে এই অঘটন ঘটে। সিলিং ধসে পড়ায় আহত হয়েছেন এক দর্শক। এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ইনফোবাই।
এই সময় হলটিতে ৪০ জনেরও বেশি দর্শক ছিলেন। প্রথমে তারা সিলিং ভাঙার ভয়াবহ শব্দ শুনে ভেবেছিলেন, হয়তো এটা সিনেমারই কোনো দৃশ্য! যেহেতু ফাইনাল ডেস্টিনেশন সিনেমাটি অ্যাকশননির্ভর।

আহত সেই দর্শকের নাম ফিয়ামে ভিলাভার্দে। তিনি তাঁর ১১ বছরের কন্যা এবং এক বান্ধবীর সঙ্গে সিনেমাটি দেখতে গিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমে ভিলাভার্দে বলেন, ‘ভয়াবহ শব্দ শোনা গিয়েছিল।’
যোগ করে বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম এটা সিনেমারই একটা অংশ, কারণ আমরা এতটাই মগ্ন ছিলাম; কিন্তু ঠিক তার পরপরই একটা ধ্বংসস্তূপের টুকরো আমার উপর পড়ল।’
এতে কাঁধ, পিঠ, হাঁটু ও গোড়ালিতে আঘাত পেয়েছেন ভিলাভার্দে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি (ধ্বংসস্তূপ) আমার মাথায় লাগেনি, কারণ আমি আর্মরেস্টের ওপর সামান্য ঝুঁকে ছিলাম।’
ঘটনাস্থলে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সিলিংয়ে বড় একটি গর্ত। ফ্লোরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ। এ ঘটনায় ভীত দর্শকদের হৈচৈ শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সিলিং ভেঙে পড়ার ঘটনায় সিনেমা হলটি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। সিনেপ্রেমীদের কেউ কেউ বলছেন, শহরে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সিলিং এমন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
এদিকে ভিলাভার্দে জানান, থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। এরইমধ্যে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কারণ, গুরুতর চোট পেলেও এই ক’দিন অফিসে ছুটি ছিল না। এক্স-রে রিপোর্টে এই আঘাতের ফলে তাঁর ট্রমা চিহ্নিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে মুক্তি পেয়েছে ফাইনাল ডেস্টিনেশন ব্লাডলাইনস। অভিনয় করেছেন কেইটলিন সান্তা জুয়ানা, টিও ব্রায়োনেস, রিচার্ড হারমন, ওয়েন প্যাট্রিক জয়নার প্রমুখ। সিনেমাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন জ্যাক লিপোভস্কি ও অ্যাডাম স্টেইন।
সূত্র: ডেডলাইন


ফেরদৌস-প্রিয়াঙ্কাকে ছাড়াই ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র সিক্যুয়েল
