থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে হঠাৎ তৈরি হয়েছে বিশাল সিংকহোল। ভাজিরা হাসপাতালের সামনে ১৬০ ফুট গভীর গর্তের কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার রোগীকে। তবে এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সিংকহোলের কারণ খুঁজতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল নয়; প্রায় প্রতিবছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা যায় সিংকহোল।
সেদিন হাসপাতাল ও রাস্তায় চলছিল স্বাভাবিক ব্যস্ততা। হঠাৎ মাটি ধসে সৃষ্টি হয় বিশাল গর্ত, মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া হয় আশপাশের সড়ক। থাই প্রধানমন্ত্রী জানান, সিংকহোলের কারণে সড়ক ও টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সংস্কারে সময় লাগবে অন্তত এক বছর।
এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে নানা দেশে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলের বুরিটিকুপো শহরে, মার্চে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে (যেখানে একজন নিহত হয়), সেপ্টেম্বরে মেক্সিকো সিটিতে, এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে সিংকহোল তৈরি হয়েছিল। টানা বৃষ্টির পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনের উইম্বলডনেও তৈরি হয় বড় গর্ত। একই বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের তিন অঞ্চলে সিংকহোল দেখা দেয়, যাতে রেল চলাচল ব্যাহত হয়। ২০২২ সালে চিলির কপিয়াপো অঞ্চলেও ঘটে একই ঘটনা।
২০১৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাজ্যের সেন্ট আলবান্সে ২০ মিটার গভীর সিংকহোল সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া জাপান, চীন ও তুরস্কসহ বহু দেশেই এর নজির রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা বৃষ্টি বা এসিড বৃষ্টির পর পানির চাপ চুনাপাথরের স্তরে প্রভাব ফেলে। সেখানে অতিরিক্ত পানি তোলার কারণে স্তর দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলেই মাটিতে হঠাৎ বড় গর্ত বা সিংকহোল তৈরি হয়।



