কানাডার অন্টারিও প্রদেশের একটি প্রেক্ষাগৃহে টানা দুই হামলার পর ভারতীয় সিনেমার প্রদর্শনী স্থগিত করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে বহুল আলোচিত ছবি ‘কানতারা: আ লিজেন্ড চ্যাপটার ১’সহ একাধিক ভারতীয় চলচ্চিত্র এখন বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, দক্ষিণ এশীয় সিনেমা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
প্রথম আঘাত আসে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়— কালো হুডি পরিহিত দুজন ব্যক্তি গ্যাস ক্যান হাতে প্রেক্ষাগৃহের প্রবেশদ্বারে আসে। মুহূর্তেই দাহ্য পদার্থ ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন ভেতরে ঢুকতে না পারলেও বাইরের অংশে মাঝারি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ পরে সেই ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, আগুন লাগানোর পর অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এতেই শেষ নয়। ২ অক্টোবর, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাতে একই প্রেক্ষাগৃহের বাইরে আবারও হামলা হয়। এ বার গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। সৌভাগ্যবশত, ওই সময় ভেতরে কোনো দর্শক ছিল না। ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
এই দুই ঘটনার পর সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়। তাদের ভাষায়, ‘কর্মীদের সুরক্ষা এবং দর্শকদের নিরাপত্তা সবার আগে।’
প্রেক্ষাগৃহের প্রধান নির্বাহী জেফ নল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারি, অনেকে এই ছবিগুলো দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তবে নিরাপত্তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। এ সিদ্ধান্তে যেকোনো অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
অন্যদিকে, প্রেক্ষাগৃহের এক্স অ্যাকাউন্টে আরও জোরালো বার্তা দেওয়া হয়, ‘এটা প্রথমবার নয় যে ভারতীয় সিনেমার প্রদর্শনীর কারণে আমরা হুমকির মুখে পড়েছি। নতুন হামলা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে, কিন্তু নিরাপদ পরিবেশে সিনেমা দেখার প্রতিশ্রুতি থেকে আমরা সরে যাচ্ছি না।’
এমন ঘটনা কানাডায় বিরল হলেও বিশ্ব সিনেমা হলে হামলার ইতিহাস নতুন নয়। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ‘ব্যাটম্যান’ সিনেমার শো চলাকালে গুলির ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে ভারতের দিল্লিতে উপহার সিনেমা হলে আগুনে প্রাণ হারান ৫৯ জন দর্শক।


মৌকে দেখে পালিয়েছিলেন পরী, আর যাননি স্কুলে
