ঢাকার পূর্বাচলের রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির পৃথক তিন মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জয় ও পুতুলকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদকে ৬ বছর করে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকি ১৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, শেখ হাসিনা রাজউকের প্লট পেতে মিথ্যা হলফ নামা দিয়েছেন। প্লট বরাদ্দে রাজউক, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী অন্যায় করেছেন। শেখ হাসিনাকে পৃথক তিনটি মামলায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটির পর একটি সাজা কার্যকর হবে বলে জানান আদালত।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। গত ২৫ মার্চ প্রতিটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
বিচারকাজ শুরু হয় ৩১ জুলাই। তিন মামলার একটিতে শেখ হাসিনাসহ আসামি ১২ জন। আরেকটিতে সজিব ওয়াজেদসহ ১৭ এবং অন্যটিতে সায়মা ওয়াজেদসহ ১৮ জন আসামি। অন্য আসামিদের মধ্যে রাজউক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আদালত।



