প্রিয় পোষ্য জেবুর ফ্লাইটে দেশের আসার ঘটনাকে ঘিরে অনেকের মধ্যেই জেগেছে ভিন্ন এক আগ্রহ। নিজের পোষা প্রাণীকে নিয়ে বিমানে ভ্রমণ করা কি আদৌ সম্ভব। অনেকের কাছে বিষয়টি অজানা। হ্যা, সম্ভব। আর তার জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি।
যার বাসায় অন্তত একটি পোষা প্রাণী আছে, সেই জানেন এই সম্পর্কটা শুধু দেখাশোনার নয়। তার সাথে রয়েছে গভীর মায়া আর নির্ভরতা। বেড়াতে যাওয়া কিংবা দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয় প্রিয় প্রাণীটিকে নিয়ে। রেখে যাব, নাকি সঙ্গে নেব? অনেকেই ঝুঁকি, খরচ আর ঝামেলার কথা ভেবে সিদ্ধান্ত বদলান। অথচ সঠিক নিয়ম মেনে পরিকল্পনা করলে পোষা প্রাণীকে নিয়ে ফ্লাইটে ভ্রমণ মোটেও অসম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়িতে ভ্রমণের তুলনায় বিমানে যাত্রা পোষা প্রাণীর জন্য কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে চাপা নাকের কুকুর বা বিড়ালের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। তাই প্রথম সিদ্ধান্তটি হতে হবে, তাকে ভ্রমণে সাথে নেওয়া আদৌ প্রয়োজনীয় কিনা। যদি প্রয়োজন হয়, তবে প্রস্তুতিটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পশুচিকিৎসকের পরামর্শ ও কাগজপত্র
ফ্লাইটের অন্তত ১০ দিন আগে পশুচিকিৎসকের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। র্যাবিসসহ প্রয়োজনীয় সব টিকা দেওয়া আছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে। টিকার তারিখসহ একটি কার্ড, মাইক্রোচিপ নম্বর, ডি-ওয়ার্মিংয়ের কাগজ এবং একটি হেলথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে রাখুন। প্রয়োজনে প্রাণীর সাম্প্রতিক একটি ছবিও সঙ্গে রাখুন।

খাঁচা বা ক্যারিয়ার নির্বাচন
বিমানে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট মানের খাঁচা ব্যবহার বাধ্যতামূলক। খাঁচাটি এমন হতে হবে, যেখানে প্রাণীটি দাঁড়াতে, বসতে ও ঘুরতে পারে। সাধারণ নিয়ম হলো, প্রাণীর শরীরের চেয়ে খাঁচাটি অন্তত ৪-৫ ইঞ্চি বড় হতে হবে। ভ্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রাণীটিকে খাঁচার সঙ্গে অভ্যস্ত করে তুলুন। ভেতরে তার প্রিয় কম্বল বা খেলনা রাখলে সে তুলনামূলক শান্ত থাকে।
এয়ারলাইনস নির্বাচন ও টিকিট বুকিং
সব এয়ারলাইনস পোষা প্রাণী পরিবহনের সুযোগ দেয় না, আবার নিয়মও এক নয়। ছোট বিড়াল বা কুকুর হলে কেবিনে নেওয়ার সুযোগ আছে কিনা, তা আগে জেনে নিতে হবে। কেবিনে প্রাণীর সংখ্যা সীমিত থাকায় আগেভাগে বুকিং দেওয়া জরুরি। কার্গোতে পাঠাতে হলে সরাসরি ফ্লাইট বেছে নেওয়াই নিরাপদ। গরমের সময় ভোর বা রাতের ফ্লাইট এবং শীতকালে দিনের ফ্লাইট তুলনামূলক ভালো।
সরকারি অনুমতি ও সনদ
বাংলাদেশ থেকে পোষা প্রাণী নিয়ে যেতে হলে স্বাস্থ্য সনদ, অনাপত্তিপত্র (এনওসি) এবং এক্সপোর্ট সার্টিফিকেট লাগতে পারে। এসবের জন্য পশুসম্পদ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই অনলাইন আবেদন থাকলেও বাস্তবে স্বশরীরে গিয়ে কাজ করালে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।
বিমানবন্দরে সতর্কতা
নিরাপত্তা তল্লাশির সময় ক্যারিয়ার এক্সরে মেশিনে যাবে। তখন প্রাণীকে হারনেস পরিয়ে শক্ত করে ধরে রাখতে হবে। অথবা সেকেন্ডারি স্ক্রিনিংয়ের অনুরোধ করা যায়। যদি প্রাণী কার্গোতে থাকে, তবে বিমানে ওঠার পর ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বা ক্যাপ্টেনকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া ভালো।
গন্তব্যে পৌঁছানোর পর
নেমেই কোনো নিরাপদ জায়গায় ক্যারিয়ার খুলে প্রাণীটিকে পরীক্ষা করুন। অস্বাভাবিক কিছু দেখলে দেরি না করে স্থানীয় পশুচিকিৎসকের কাছে যান।
সব মিলিয়ে পোষা প্রাণী নিয়ে ফ্লাইটে যাত্রা সময়সাপেক্ষ ও ধৈর্যের কাজ। তবে সঠিক নিয়ম, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আর সচেতনতা থাকলে প্রিয় সঙ্গীটিকে সঙ্গে নিয়েই নিরাপদে পৌঁছানো সম্ভব।



