১৪তম নেপাল-আফ্রিকা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশি সিনেমা ‘সাঁতাও’। সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করেছে খন্দকার সুমন পরিচালিত এই সিনেমা।
মুক্তির তিন বছর পরও আন্তর্জাতিক উৎসবে পুরস্কৃত হওয়ায় খন্দকার সুমন গভীরভাবে আপ্লুত ও আনন্দিত। তিনি বলেন, ‘মুক্তির তিন বছর পরও সাঁতাও আন্তর্জাতিক উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পাচ্ছে—এটা আমার জন্য ভীষণ আবেগের। এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে, গল্প যদি সত্যিকারের মানুষের কথা বলে, তাহলে সময় কখনও তাকে পুরনো করে দেয় না।’
নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে বিশ্বের ২০টি দেশের ৪৩টি চলচ্চিত্র অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে ২০টি নেপালি এবং ১৯টি দেশের ২৩টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় স্থান পায়। বাংলাদেশ থেকে একাধিক চলচ্চিত্র এই উৎসবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরির উল্লেখযোগ্য পুরস্কার
বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম: মেমোরিজ অব গ্লুমি মুনসুনস (সাঁতাও), খন্দকার সুমন
বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিমেল ফিল্ম: লেটার অব দ্য ফলেন লিভস, শায়লা রহমান তিথি
স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড (ইন্টারন্যাশনাল শর্ট): নো ডাইস, সাগর ইসলাম
বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি: নট শিডিউলড অর ফাইটিং টু লার্ন, ভিক্টোরিয়া গ্রেবেনিয়ুক
বেস্ট আফ্রিকান ফিল্ম: দ্য মাঙ্কি, বিশয় আদেল
বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল শর্টফিল্ম: ব্লিউ, প্রবীণ কুমার নাগেন্দ্র

প্রসঙ্গত, উৎসবে আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ডের প্রধান ছিলেন নেপালের প্রখ্যাত পরিচালক ও প্রযোজক রাজু কেসি। জুরি বোর্ডে আরও ছিলেন বাংলাদেশি নির্মাতা সুপিন বর্মণ, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রযোজক ও সমালোচক ক্যাথরিন সোফিয়ানো প্রমুখ। জাতীয় জুরি বোর্ডেও ছিলেন নেপালের চলচ্চিত্রাঙ্গনের একাধিক খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার ঘোষণা ও বিতরণ করা হয়। ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে নির্মাতা খন্দকার সুমন নেপালে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি উৎসব পরিচালক ডাব্বু ক্ষেত্রির মাধ্যমে সুসংবাদটি জানতে পারেন।
এর আগেও সাঁতাও বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে। গ্রামীণ বাংলাদেশের জীবনসংগ্রাম, আবহাওয়া পরিবর্তন, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম বয়ান তুলে ধরা এই চলচ্চিত্র ইতিমধ্যে সমকালীন চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে স্বীকৃত।



জাতীয় দলের খেলাই দেশের ক্রিকেটের সবকিছু নয়: আসিফ
