বিশ্বের বিনোদন দুনিয়ায় বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে নতুন এক প্রতিবেদন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়া বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ইউটিউবের ব্যবহারকারী সংখ্যা ছুঁতে পারে প্রায় ৩০০ কোটি! আর পিছিয়ে নেই নেটফ্লিক্স—তাদের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীও ছাড়িয়ে যেতে পারে ১০০ কোটির মাইলফলক।
ফ্রান্সের জনপ্রিয় টেলিভিশন আয়োজন সিরিজ ম্যানিয়ায় এই তথ্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া ও এন্টারটেইনমেন্ট প্রধান মারিয়া রুয়া আগুয়েতে। তার মতে, ইউরোপজুড়ে ভিডিও দেখার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনছে এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলো।
ইউটিউব ফ্রান্স ও দক্ষিণ ইউরোপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাস্টিন রিস্টের সঙ্গে আলোচনায় আগুয়েতে জানান, ফ্রান্সে এখন ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে নেটফ্লিক্স ও ইউটিউব। প্রচলিত টিভি চ্যানেল বা পেইড টিভির চেয়েও এগিয়ে এই দুই প্ল্যাটফর্ম। সেখানে বাজারের ১৮ শতাংশ দখলে রেখেছে নেটফ্লিক্স, আর ইউটিউবের দখল ১২ শতাংশ।
আলোচনায় উঠে আসে ইউটিউবের বদলে যাওয়া ভূমিকার কথাও। ফ্রান্সের প্রচলিত ব্রডকাস্টারদের—যেমন ফ্রান্স টিভি, টিএফ১ প্লাস বা এম৬ প্লাসম সঙ্গে ইউটিউবের দর্শকের কিছু মিল থাকলেও, বড় একটি অংশ রয়েছে যারা এসব সেবার বাইরে। ফলে নতুন দর্শক ধরতে ইউটিউব হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
এই পরিস্থিতিতে ইউটিউব একদিকে যেমন টিভি দর্শক বাড়াতে সহায়ক প্ল্যাটফর্ম, অন্যদিকে নতুন দর্শকের দরজাও খুলে দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের চিত্রও অনেকটা ভারসাম্যপূর্ণ। সেখানে বৈশ্বিক ও স্থানীয় প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে সমানতালে। নেটফ্লিক্স ১৭ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে, এরপর স্কাই ১৫ শতাংশ এবং ইউটিউব ৯ শতাংশ নিয়ে রয়েছে তালিকায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন শুধু বড় পরিসরের দর্শক থাকলেই হবে না—দরকার সঠিক কনটেন্ট ও সঠিক প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়। ইউটিউব যেমন নতুন দর্শক এনে দেয়, তেমনি নেটফ্লিক্স এগিয়ে রয়েছে মানসম্মত গল্প বলা ও দর্শক ধরে রাখার দৌড়ে।


ট্রাম্পকে নিয়ে টুইঙ্কেলের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক
