প্রায় ৫৩ বছর পর আবারও চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছে মানুষ। নাসার ‘আর্টেমিস–২’ মিশনে চার নভোচারী ফ্লোরিডা থেকে মহাকাশে যাত্রা শুরু করেছেন। ১০ দিনের এই মিশনে তাঁরা চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
এই মিশনে অংশ নেওয়া নভোচারীরা হলেন রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কখ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। তিন বছর প্রশিক্ষণের পর তাঁরা আর্টেমিস কর্মসূচির প্রথম মানববাহী দল হিসেবে এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্টেমিস–২ মিশনের কমান্ডার রিড উইজম্যান একজন সাবেক মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলট ও টেস্ট পাইলট। ২০০৯ সালে তিনি নাসার নভোচারী হন এবং ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ১৬৫ দিন কাটান।
মহাকাশযানের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ছিলেন। তিনি স্পেসএক্স ক্রু ওয়ান মিশনের পাইলটও ছিলেন। চাঁদের মিশনে অংশ নেওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী তিনি। তাঁর তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে।
মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কখ ২০১৩ সালে নভোচারী হন। তিনি একটানা ৩২৮ দিন মহাকাশে থেকে নারীদের মধ্যে দীর্ঘতম মহাকাশযাত্রার রেকর্ড গড়েছেন। এই মিশনের মাধ্যমে তিনি চাঁদের চারপাশ ভ্রমণকারী বিশ্বের প্রথম নারী হতে যাচ্ছেন।
অভিযানে মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে আছেন জেরেমি হ্যানসেন। তিনিই প্রথম কানাডীয় হিসেবে চাঁদে যাচ্ছেন। এর আগে নাসার অ্যাকোয়ানট হিসেবে কাজ করার সময় তিনি সাত দিন পানির নিচে অবস্থান করেছিলেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সূর্যাস্তের আগে ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের সময় রকেটটি বিশাল সাদা ধোঁয়ার স্তম্ভ তৈরি করে আকাশে উঠে যায়।
চলতি দশকের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি পদক্ষেপ। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো মিশনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ গিয়েছিল।



