মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও হোয়াইট হাউজের দৌড়ে কমলা কেনো ট্রাম্পকে ঠেকাতে পারলেন না, তা নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ তুলে ধরছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিসের বেশকিছু কারণ উঠে এলেও এখন বলা হচ্ছে, তাঁর দেরিতে মনোনয়ন পাওয়া। এ বিষয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেই দুষছেন সাবেক হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।
পেলোসির মতে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করতে পারতো। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ন্যান্সি পেলোসি এসব মন্তব্য করেন।
বাইডেন নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তড়িঘড়ি করে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় কমলা হ্যারিস নিজের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিতে পারেননি বলে দাবি ন্যান্সি পেলোসির। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক এই স্পিকার আরও বলেন, বাইডেন আরও আগে প্রার্থীতা থেকে সরে এলে কমলা জনগণের আরও কাছে যেতে পারতেন।
এই পুরো প্রসঙ্গ টেনে ন্যান্সি পেলোসি ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে কমলা হ্যারিসকে মনোনয়ন দেওয়ার পেছনে জো বাইডেন দায়ী। তিনি আরও আগে সরে দাঁড়ালে কমলা আরও বেশি মানুষের কাছে যেতে পারতেন এবং জনসমর্থন আদায় করতে পারতেন।’
এরপর কমলা হ্যারিসের প্রশংসা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক এই স্পিকার। তিনি বলেন, ‘কমলা হ্যারিস খুব অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়ে তুলেছেন। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে কমলা জিততেন বলে মনে করি। তিনি যথেষ্ট সময় পাননি। আরও বেশি সময় পেলে তিনি আরও বেশি মানুষের কাছে যেতে পারেতন এবং নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারতেন।’
এ ছাড়া বাইডেনের চিন্তাভাবনা থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র কোনো ভাবনা সমর্থকদের কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি বলেও মত বিশ্লেষকদের। মার্কিন গণমাধ্যম এবিসির এক শোতে কমলার কাছে জানতে চাওয়া হয়, বাইডেনের থেকে আলাদা কী করবেন তিনি? সে সময় কমলা উত্তর দিয়েছিলেন, তাঁর কিছুই মনে পড়ছে না।
কমলার এমন উত্তরে যেমন আশাহত হয়েছে ডেমোক্রেট পার্টি, একইসাথে আশাহত করেছেন তাঁর সমর্থকদের। এতে করে কমলার ভবিষ্যত নেতৃত্বের সঠিক নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয় ভোটারদের মধ্যে।
আর একেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের নির্বাচনী প্রচারে শোয়ের এই বিশেষ অংশটি প্রচার করেছেন বারবার।
এ ছাড়া কমলার পরাজয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে বাইডেন সরকারের মেয়াদে অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও অবৈধ অভিবাসীদের ঢল সামলাতে ব্যর্থতা। সেইসাথে গতবার সুইং স্টেটের জনসমর্থন লাভে বাইডেন যে সাফল্য দেখিয়েছিলেন, তা ধরে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন কমলা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কথা বলার সময় হ্যারিস তাঁর নিজস্ব নীতিমালা ও নেতৃত্বের গুণাবলির প্রতি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে ব্যর্থ হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে, বাইডেনের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হ্যারিস কেন সেই পথে হাঁটেননি?
হেরে যাওয়ার পর ডেমোক্র্যাট শিবিরে হ্যারিসের পরাজয়ের কারণ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের ভুলভ্রান্তি সংশোধন করে আগামীতে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে দলটিকে। পাশাপাশি, দলে ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন পরিকল্পনা তৈরির প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটদের চোখ এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে। তবে সেখানে নতুন কোনো নেতৃত্ব আসবে কিনা তা এখনো বলা যা যাচ্ছে না। নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনাই বেশি।



