সিএনএন-এর বিশ্লেষণ

চীন চাইছে মার্কিন ডলারকে চ্যালেঞ্জ করুক তাদের মুদ্রা – আদৌ কি সেটা সম্ভব?   

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০১ পিএম

চীন এখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নিচ্ছে। লক্ষ্য একটাই — মার্কিন ডলারের প্রভাব কমিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করা।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। এর বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রায়শ: অস্থির ও কখনো কখনো বিশৃঙ্খল অর্থনৈতিক নীতিকে। এর ফলে ডলারের দাম নেমে এসেছে চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। স্বাভাবিকভাবেই, বিনিয়োগকারীরা তাই নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। এতে স্বর্ণের দাম এক আউন্সে ৫ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি হয়ে রেকর্ড ছুঁয়েছে। এই পরিস্থিতি চীনের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে — নিজেদের মুদ্রা রেনমিনবি-কে (মুদ্রার নাম, এককের নাম ইউয়ান) ডলারের বিকল্প হিসেবে সামনে আনার।

সপ্তাহান্তে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র সাময়িকীতে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনি রেনমিনবি-কে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। বর্তমানে এই ভূমিকা পালন করছে মার্কিন ডলার।

বিশ্বজুড়ে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক লেনদেনেই ডলার ব্যবহার হয়, তাই এটিকে সবচেয়ে নিরাপদ মুদ্রাগুলোর একটি ধরা হয়। এখনই এই অবস্থার বদল অর্থাৎ ডলারের জায়গা নিয়ে নেবে চীনের রেনমিনবি — এমনটা কেউ ভাবছেন না। তবে গত বছর ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ডলারের মূল্য যেভাবে কমেছে, তাতে অন্তত নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

‘কিউশি’ সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিং সরকারি কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছেন, চীনের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি শক্তিশালী মুদ্রা তৈরি করা, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হবে। এর জন্য দরকার শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা এবং বিশ্ববাজারে দামের ওপর প্রভাব রাখার ক্ষমতা। এসব কথা শি বলেছিলেন ২০২৪ সালে, ব্যক্তিগত আলোচনায়। কিন্তু এখন সেগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, কারণ চীন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে — এবং তার কিছু ফলও মিলছে।

 

চীনের এই পরিকল্পনা এখন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

গত এক দশকের বেশি সময় ধরে চীন চেষ্টা করছে রেনমিনবি-কে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে। লক্ষ্য ছিল, এটিকে একটি স্থিতিশীল বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে গড়ে তোলা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা এবং ‘ডলারনির্ভরতা কমানো’র প্রবণতা থেকে চীন নতুন করে লাভবান হচ্ছে।

ট্রাম্প একের পর এক বড় বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এতে ডলারের ওপর আস্থাও কমেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফেডারেল রিজার্ভের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা। ট্রাম্প বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের সঙ্গে বারবার সংঘাতে জড়িয়ে কেভিন ওয়ার্শকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। এতে সুদের হার ও মুদ্রানীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

গত বছর থেকেই বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে ডলার থেকে সরে আসছেন। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্ডও ইউরোর বড় ভূমিকার কথা বলেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে অনেক দেশ ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজছে। ট্রিভিয়াম চায়নার গবেষণা প্রধান ডিনি ম্যাকমাহন বলেন, রেনমিনবি-কে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে হলে একটি আলাদা জায়গা তৈরি করতে হয়, যা এতদিন খুব কঠিন ছিল। তবে এখন চীনের নেতৃত্ব ভাবছে, ডলারের ওপর মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় এই সময়টা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 

বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই প্রায় ৮০ বছরের বেশি সময় ধরে ডলার বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রে রয়েছে। ব্রেটন উডস চুক্তির মাধ্যমে ডলারকে স্বর্ণের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং আরও ৪৪টি দেশের মুদ্রার মান ডলারের সঙ্গে বাঁধা ছিল। এর ফলে ডলারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এতে যুক্তরাষ্ট্র কম সুদে বিদেশ থেকে ঋণ নিতে পারে এবং অন্য দেশের ওপর সহজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ডলারের পাশাপাশি আরও সাতটি মুদ্রাকে রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে আছে ইউরো, চীনের রেনমিনবি, জাপানি ইয়েন, কানাডিয়ান ডলার, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড ও সুইস ফ্রাঁ। চীন চায় রেনমিনবি-র অবস্থান শক্ত করতে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রভাব ও চাপ থেকে কিছুটা স্বাধীন থাকতে পারে এবং একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে পারে।

 

রেনমিনবি-কে শক্তিশালী করতে চীন কী কী করেছে?

চীন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে রেনমিনবি-কে আকর্ষণীয় করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনা শেয়ার, বন্ড ও পণ্যবাজারে প্রবেশ সহজ করা এবং সীমান্ত পেরিয়ে অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়া সহজ করা। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করাও রেনমিনবি-র ব্যবহার বাড়িয়েছে।

ইউক্রেনে হামলার পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে রেনমিনবি-র ব্যবহার রেকর্ড মাত্রায় বেড়ে যায়। কারণ চীন তখনও রাশিয়ার বড় বাণিজ্য অংশীদার ছিল। গত গ্রীষ্মে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পান গংশেং বলেন, রেনমিনবি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ট্রেড ফাইন্যান্স মুদ্রা এবং তৃতীয় বৃহত্তম পেমেন্ট মুদ্রা। তিনি ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যের বদলে বহু-মেরুকেন্দ্রিক মুদ্রা ব্যবস্থার কথা বলেন।

ডলারের এই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পকে বেশ উদ্বিগ্ন করেছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা — এই পাঁচ দেশের জোট ‘ব্রিকস’ একটি নতুন রিজার্ভ মুদ্রার ধারণা দিয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এটি বাস্তব হলে তিনি ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন।

 

রেনমিনবি কি সত্যিই ডলারের জায়গা নিতে পারবে?

রেনমিনবিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠা এখনো অনেক দূরের বিষয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের প্রায় ৫৭ শতাংশ ছিল ডলারে, প্রায় ২০ শতাংশ ইউরোতে, আর রেনমিনবিতে ছিল মাত্র ২ শতাংশ। চীন সরাসরি কখনো বলেনি যে তারা ডলারকে সরিয়ে দিতে চায়। তাদের লক্ষ্য মূলত নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনে অর্থ প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো রেনমিনবি-র ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে চাইবে না। পাশাপাশি চীন হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই রেনমিনবির দাম তুলনামূলক কম রাখতে চাইবে, যাতে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি সুবিধা পায়।

ডিনি ম্যাকমাহন বলেন, রেনমিনবি ডলার বা ইউরোর মতো বড় রিজার্ভ মুদ্রা হয়ে উঠবে — এমনটা কখনোই তিনি কল্পনাও করেন না, আর বেইজিংও সম্ভবত তা করে না। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে চীন মনে করছে, নিজেদের অবস্থান কিছুটা হলেও শক্ত করার সুযোগ এখন আছে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআইয়ের ঠিক ১০ বছর পর, চীনের আরও একটি বৈশ্বিক উদ্যোগে শামিল হচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরেই এ ঘোষণা আসতে পারে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের...
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে প্রাথমিক চুক্তি সই হয়েছে। শুক্রবার থেকেই খুলছে হরমুজ প্রণালি। আর এতেই ওলটপালট হয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি। বড় ধাক্কা...
২০১২ সালের এক বসন্তে বেইজিংয়ে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মুখোমুখি হন বিশ্বের অন্যতম ধনী বিল গেটস ও চীনের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৈঠক শেষে তারা যখন বের হচ্ছিলেন, তখন আলোচনার বিষয়বস্তু কী ছিল...
আসলে প্রতিবেশী এই দুই দেশের বিরোধ ও উত্তেজনায় তাইওয়ানের পক্ষ নেওয়ার ইতিহাস আছে যুক্তরাষ্ট্রের। তাইওয়ান দ্বীপকে নিজের বিদ্রোহী অঞ্চল বলেই বিবেচনা করে আসছে চীন। এজন্য তাইপের সঙ্গে বহির্বিশ্বের কারও...
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধের ভাঙন রোধে স্থায়ী সিসি ব্লক বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ময়নার খামার যুব সংঘ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে...
ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ নিয়োগ নিয়ে নাটকীয়তার অবসান ঘটেছে। টানা তিন বিশ্বকাপ খেলতে না পারা দলটার দায়িত্বে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরছেন রবার্তো মানচিনি। মঙ্গলবার ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের...
রাজধানীর চকবাজারে ব্যাটারিচালিত দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দবির আহমেদ (৫০) নামে এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে চকবাজার থানার উর্দু রোড মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা হয়।
নরসিংদীর মাধবদীতে বাড়িতে ঢুকে মো. শাহজাহান (৫৬) নামের এক ব্যক্তিকে খুন ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাধবদী থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান...
লোডিং...

এলাকার খবর