সম্প্রতি ঢাকার আশেপাশে বেশ কয়েকটি মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এগুলোর উৎপত্তিস্থল ঢাকার আশেপাশে হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ গত ২২ জুন সোমবার রাতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। এর আগে, ১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কালিয়াকৈরেও ৩ দশমিক ২ মাত্রার কম্পন হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার সবচেয়ে কাছে শক্তিশালী কম্পনটি হয়েছিল ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদীতে। এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পে রাজধানীসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় ১০ জন নিহত ও সাড়ে চার শতাধিক মানুষ আহত হন। এর পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় বাড্ডাসহ নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় আরও তিনটি আফটারশক অনুভূত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়ার মতে, ইউরেশিয়ান, ইন্ডিয়ান ও বার্মিজ—এই তিন প্লেটের সংযোগস্থলের সক্রিয় বা নতুন কোনো ফল্টের টেকটোনিক কার্যকলাপের কারণে এসব কম্পন হচ্ছে।
বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভূমিকম্প গবেষক অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী জানান, সাম্প্রতিক ছোট কম্পনগুলো বড় ভবনধসের কারণ না হলেও এগুলো সতর্কবার্তা। ঐতিহাসিকভাবে ঢাকা বা নরসিংদীকেন্দ্রে বড় ভূমিকম্পের রেকর্ড নেই। তবে ঢাকার ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সিলেট, শ্রীমঙ্গল বা বগুড়ার শেরপুর অঞ্চলে আগেও ৭ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।
একেকটি বড় ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তির নির্দিষ্ট চক্র থাকে। সেই হিসাবে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে ঢাকায় ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া ভূপৃষ্ঠের ব্লাইন্ড ফল্টও ঢাকার জন্য বড় হুমকি।
কোন এলাকা নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার নিরাপত্তা দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল—ভূতাত্ত্বিক গঠন ও অবকাঠামো। ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে ঢাকার উত্তর অংশের মধুপুরের লাল মাটি বেশ শক্ত। এই গড়নের রমনা, মগবাজার, ধানমন্ডি, গুলশান, মিরপুর, মতিঝিল ও লালমাটিয়ার মতো এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ। অন্যদিকে পূর্ব ও পশ্চিমের ভরাট করা নরম পলিমাটির এলাকাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে শুধু মাটির ওপর নিরাপত্তা নির্ভর করে না। অধ্যাপক আনসারীর মতে, পুরান ঢাকার সরু রাস্তার কারণে দুর্যোগে উদ্ধারকাজ কঠিন হলেও সেখানকার অনেক ভবন শত বছর ধরে টিকে আছে। তাই ভবনের নির্মাণশৈলী ও কাঠামোগত মানই ঝুঁকির আসল নির্ধারক।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা



