ইমাম-উলামাদের বাধায়, কনসার্ট বাতিল হলো কিশোরগঞ্জে। প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা আশঙ্কায় অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে জেলা প্রশাসন। পাশের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। থমথমে শহরটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
অ্যাশেজ ব্যান্ড ও নোবেলের কনসার্টটি হওয়ার কথা ছিল বুধবার সন্ধ্যায়। তাই কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি চলছিল জোরেশোরে। কিন্তু স্থানীয় ইমাম-উলামাদের আপত্তিতে, বাতিল করা হয় পুরো আয়োজন।
কনসার্টকে শরীয়ত বিরোধী উল্লেখ করে এবং অপসংস্কৃতি বন্ধের দাবিতে ডিসির কাছে আবেদন করে ইমাম-উলামা পরিষদ। সংগঠনটির সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আহমাদুল্লাহ আবেদনটি করেন। আবেদনে কনসার্টে গান-বাজনার আয়োজনকে ‘শরিয়তবিরোধী’ বলা হয় এবং সেটি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
অনুমতি বাতিলের অন্যতম কারণ হিসেবে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স না থাকার কথা জানান জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি বলেন, ‘শুরুতে কনসার্টের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে জানা যায়, আয়োজক প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই।’
এদিকে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানায়, রেস্টুরেন্টের র্যাফেল ড্রয়ের পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে কনসার্টটির আয়োজন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করার পর তারা অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতিও পেয়েছিলেন। তবে দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কনসার্ট আয়োজন না করার কথা জানানো হয়।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিদর্শনের জন্য ডিআইজির আগমন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন হয় পুলিশ লাইনসে। পরীক্ষা চলায় অনুষ্ঠানে গানের শব্দ কমানোর দাবি জানায় পাশের দারুল আকরাম মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। এ সময় কথা কাটাকাটির পর শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। একপর্যায়ে পুলিশ লাইনসে ঢুকে ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা। পরে লাঠিচার্জ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় ৬ পুলিশসহ আহত হন ৩০ জন।



