পিরোজপুরের কাউখালীতে মরা মুরগী খালে ফেলে দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে মো. রব হাওলাদার (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ রোববার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় আরও ৮ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে উপজেলার চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর নিলতী গ্রামে শনিবার সন্ধ্যার দিকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রব হাওলাদার উপজেলার উত্তর নিলতী গ্রামের মৃত মকবুল হাওলাদারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে একই এলাকার সঞ্জয় ঘোষের ফার্মের কিছু মুরগি মারা যায়। সঞ্জয় তাঁর ফার্মের ওই মরা মুরগিগুলো বস্তায় ভরে শনিবার দুপুরের দিকে নিহতের বাড়ির সামনের খালে ফেলে দেন। এ নিয়ে ওই এলাকার সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ও নিহতের ভাবি খাদিজা বেগম বিকেলে ৫টার দিকে বাড়িতে এসে সঞ্জয়ের কাছে মরা মুরগিগুলো খালে ফেলে দেওয়ার কারণ জানতে চান। এ সময় সঞ্জয় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
এদিকে এ ঘটনার জেরে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইউপি সদস্য খাদিজার কাছে ত্রাণের কার্ড বিতরণের বিষয় তোলেন সঞ্জয়ের বাবা সুভাস ঘোষ। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। বিষয়টি সমাধনেরন জন্য ইউপি সদস্য খাদিজা ইউপি চেয়ারম্যানকে জানান। পরে চেয়ারম্যান উভয়কে তাঁর অফিসে যেতে বলেন। পরে খাদিজা তাঁর লোকজন নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে যাওয়ার পথে সঞ্জয় ঘোষ ও সুলায়মান সরদারসহ ৪–৫ জন লাঠি দিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় হামলাকারীরা তাদের পাশের একটি বাড়িতে টেনে নিয়ে মারধর করে।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় আ. রব হাওলাদার (৪৫), মুজিব হাওলাদার (৫৫), মো. সেলিম হাওলাদার (৪০), আশিক হাওলাদার (১৭), সঞ্জীব চন্দ্র ঘোঘ (৩২), সঞ্চয় ঘোঘ (৪০), আলিম হাওলাদার (৪৫), লিমন হাওলাদার, সুলায়মান সরদারকে উদ্ধার করে কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক গুরুতর আহত রব হাওলাদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে রোববার বেলা ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন রব হাওলাদার মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’



