স্ত্রী বিচ্ছেদের জেরে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় বন্ধুর হাতে জাফর আলী খান (৩৫) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার রাতে ভান্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত জাফর পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার উত্তর চড়াইল গ্রামের মুনসুর আলী খানের ছেলে এবং আওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
ভান্ডারিয়া উপজেলার পূর্ব মাটিভাঙ্গা গ্রামে একটি জানাজায় অংশ নেওয়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে তাঁর বন্ধু পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামের জলিল হাওলাদারের ছেলে মিজানুর রহমান ও সহযোগীরা। সেখান থেকে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিজানের সঙ্গে জাফরের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। তারা নিয়মিত একজন আরেক জনের বাড়িতে যাতায়াত করত। এক পর্যায়ে জাফরের স্ত্রীর সঙ্গে মিজানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ৩-৪ বছর আগে মিজান তাঁকে বিয়ে করে। এ নিয়ে জাফর ও মিজানের মধ্যে চরম দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে জাফর তাঁর বন্ধু মিজানের ওপর হামলা করে এবং কুপিয়ে মিজানের হাতের দুইটি আঙুল বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ ঘটনার জেরে বুধবার মিজানের গ্রাম থেকে জানাজায় অংশ নেওয়া শেষে ফেরার পথে জাফরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে মিজান ও তাঁর সহযোগীরা। এরপর তাঁকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। তাঁর ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এরপর তাঁকে বরিশালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
ভান্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মিলন মন্ডল বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহত জাফরের স্ত্রী বাদী হয়ে ভান্ডারিয়া থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’



