দেশের জিডিপিতে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান ২ থেকে ৩ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ সোমবার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অনেকে দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান ১০ শতাংশ হলেও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার সব ধরণের সহায়তা দেবে বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
ক্ষুদ্র ব্যবসা, ক্ষুদ্রঋণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ তহবিল প্রকল্পের উদ্বোধন ও ঋণের চেক বিতরণে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সোমবার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কর্মসংস্থান ব্যাংক। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'অনেক দেশে ক্রিয়েটিভ ইকোনোমির অবদান জিডিপির ১০ শতাংশ। দেশে ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জিডিপিতে অবদান সরকার ৩ শতাংশে আনতে চায়।'
কর্মসংস্থান ব্যাংকের এই প্রকল্প দেশে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে কি ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে মতামত তুলে ধরেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এ এফ এম মতিউর রহমান। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া ফান্ডের সুদ ২ শতাংশ করলে পরিসর বাড়াতে সুবিধা হবে। ব্যাংকের শাখা বাড়ানোতে ব্যর্থতা আছে। ভবিষ্যতে এটা কাটিয়ে উঠা হবে।'
অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ৪ থেকে ১-২ শতাংশে নামিয়ে আনলে ভালো হবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, 'দেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে ৫০ কোটি টাকার এই পাইলট প্রকল্প চালু হলো। ভবিষ্যতে আরও বড় প্রকল্প হাতে নেয়ার লক্ষ্য সরকারের।'
এসময় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, 'অনেকেই ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে ভয় পান। কিন্তু প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ব্যাংকগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা জরুরি।'
খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল অর্থনীতিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। কামার-কুমার, বেঁদে, জেলেসহ প্রান্তিক পর্যায়ে সৃজনশীল নানা উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্বভিত্তিক অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে মূলধারায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।



