দুর্নীতি ও অনিয়মে ১৭ বছরেও কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বুধবার বেলা ১১টায় নির্মাণাধীন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে চিকিৎসক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। এতে বক্তব্য রাখেন– কাউখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস,এম আহসান কবীর, পিরোজপুর জেলা জামায়তের সহ-সভাপতি মাওলানার ছিদ্দিকুল ইসলাম, উপজেলা ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সভাপতি মাওলানার আলী হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান নিক্সন, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রফিক, তারিকুল ইসলাম পান্নু, এনামুল হক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাউখালী হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজের কার্যক্রম শুরু না হলে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় মূল ভবন ও দুইটি আবাসিক ভবনের জন্য ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানকের ভাই নাসির উদ্দিন লিটু ক্ষমতার অপব্যবহার করে নূরিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি হাতিয়ে নেন। ওই বছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২০ শতাংশ কাজ করে ফেলে রেখে বিল নিয়ে চলে যায়। শিডিউল অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করায় ২০১৪ সালের ২৫ জুন ওই ঠিকাদারের দরপত্রের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। এবং ২০২৪ সালের ২১ এপ্রিল দুদক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তিন প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালিকের নামে মামলা করেন। ২০২২ সালের ২৪ জুলাই কহিনুর এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২৫ কোটি ১১ লাখ টাকার কার্যাদেশ পেয়ে ১ বছরের মধ্যে ভবনের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তারা কাজ শেষ না করে পালিয়ে যায়। পরে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মামলা করে। মামলা এবং ঠিকাদারের গাফিলতিতে কাউখালী উপজেলার দেড় লাখ মানুষের সেবা দেওয়ার একমাত্র হাসপাতালটিতে কোনো ভবন না থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।



