খাগড়াছড়ির রামগড়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘শান্তি পরিবহণ’ নামের একটি বাস রাস্তার পাশে খাদে পড়ে গেছে। এতে অন্তত ৯ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, চালকের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীরা তাঁকে বারবার সতর্ক করলেও কর্ণপাত করেননি চালক। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পলিয়ে যান চালক।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন- নজরুল ইসলাম, বাসের হেলপার রমজান আলী, তানিয়া, হাজেরা বেগম, বাসের সুপারভাইজার আজাদ, জাহিদা আক্তার, মো. রেজওয়ান, খোরশেদ আলম ও মো. ইব্রাহিম।
পুলিশ জানায়, বাসটি খাগড়াছড়ির দিকে যাচ্ছিল। রামগড়-জালিয়াপাড়া সড়কের মাহবুবনগর নামক স্থানে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে বাসটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এদিকে খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার শুরু করে। পরে পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আহতদের উদ্ধার করে জালিয়াপাড়ায় বিজিবি হাসপাতালে পাঠায়। এতে ৯ জন আহত হন।
মো. ইব্রাহিম নামে এক আহত যাত্রী বলেন, ‘বাসটি সোমবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। শুরু থেকে চালক খুব বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মুন্সিগঞ্জে একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হলেও ভাগ্যক্রমে বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাই। যাত্রীরা চালককে বার বার সতর্ক করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি।’
আরেকজন যাত্রী বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে রামগড়ের মাহবুবনগর নামক স্থানে পৌঁছালে চালক ঘুমের ঘোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে দ্রুতগতির বাসটি রাস্তার বাহিরে গিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায়।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে পোঁছে উদ্ধার ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করি। আহতদের বিজিবি হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
ওসি আরও বলেন, আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দুজন যাত্রীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার বাসটি খাদ থেকে উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে আনা হবে। চালক পলাতক রয়েছে।



