লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের স্ত্রী জুলেখা বেগম ও কলেজ পড়ুয়া মেয়ে তানহা আক্তার মীমকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় সোহেল হোসেন নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
আজ ভোররাতে রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সোহেল এলাকার চিহ্নিত মাদকাসক্ত ও ডাকাতদলের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে জোড়াখুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে সোনাপুর বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বাজারের ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের মানুষ। মানববন্ধন শেষে বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষ করে পুনরায় সোনাপুর বাজারে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন, বাজারের ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিকদলের নেতারা।
তারা বলেন, ঘটনার ৫ দিন পার হলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। কী কারণে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে, সেটাও নিশ্চিত নয়। অনতিবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হলেও থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারী বলেন, জোড়াখুনের ঘটনায় সোহেল হোসেন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সোহেল এলাকার চিহ্নিত মাদকাসক্ত ও ডাকাতদলের সদস্য। তবে হত্যাকাণ্ড নিয়ে সোহেল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এ নিয়ে মামলার বাদী মিজানুর রহমানের ভাতিজা সোহেলসহ দুইজন গ্রেপ্তার করা হলো।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর রামগঞ্জের উত্তর চন্ডিপুর গ্রামে বাসায় ঢুকে জুলেখা ও তার মেয়ে তানহা আক্তার মীমকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতকরা। বাসায় তারা একা ছিল। রাতে নিহতদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাসায় গেলে জুলেখা ও মীমের গলাকাটা মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরের দিন শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহতদের মরদেহ দাফন করা হয়।


লক্ষ্মীপুরে ঘরে ঢুকে মা-মেয়েক হত্যা, নগদ টাকাসহ ৩০ ভরি স্বর্ণ লুট
