চট্টগ্রাম নগরীর অনেক এলাকায় নিয়মিত পানি না থাকলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পে গ্রাহক পাচ্ছে না ওয়াসা। দিনে ৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও চাহিদা কম থাকায় উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ২৫ লাখ লিটার। সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্প শুরু করায় দুই বছরেও এটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারেনি।
২০১৬ সালে বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়িতে পানি সরবরাহের জন্য প্রকল্প নেয় চট্টগ্রাম ওয়াসা। এতে আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী ও পটিয়া পৌরসভার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে পানি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এ ছাড়াও সিইউএফএল, কাফকো, কোরিয়ান ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানেও পানি সরবরাহের কথা ছিল। ২০২৩ সালের শুরু হয় পানি সরবরাহের কাজ।
ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, এরই মধ্যে প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু নানা প্রচার সত্ত্বেও দুই বছরেও ওয়াসা কাঙ্ক্ষিত গ্রাহক পায়নি। এ পর্যন্ত লক্ষ্যের মাত্র ৩০ শতাংশ সংযোগ দেওয়া গেছে। প্রতিদিন ৬ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ২৫ লাখ লিটার।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ১৩ শিল্প প্রতিষ্ঠান পানি নেওয়ার আগ্রহ দেখালেও কাজ শেষের পর কেবল সিইউএফএল ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠানের সাড়া মেলেনি।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, শুরুতে ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকায় অনুমোদিত এই প্রকল্পের খরচ পরে বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকায়। প্রকল্প গ্রহণে সরকারি কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় অপচয় বেড়েছে।



