মায়ের কবরের পাশে শেষ শয্যায় শায়িত হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসন থেকে ৫ বার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক চিফ হুইপ ও প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে শহরের শেরপুরস্থ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে, আজ দুপুর সোয়া ২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হারুন আল রশিদের তৃতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও তাঁর নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ জানাযায় অংশ নেন। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মৌলভীপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জাকারিয়া।
জানাযা নামাজের আগে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় প্রয়াত নেতার জীবন ও কর্ম নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান এমপি, নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান এমপি, জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য সায়েদুল হক সাঈদ, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ–সভাপতি জহিরুল হক খোকন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন আকন্দ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ, জেলা যুবদলের সভাপতি মো. শামীম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের প্রধানরা।
পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মরহুমের বড় ছেলে কানাডা প্রবাসী চিকিৎসক আসিফ হারুন। জানাযা শেষে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুলের স্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে ঢাকায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে হারুন আল রশিদের মৃত্যু হয়। বার্ধক্যজনিত রোগে হাসপাতালটিতে কয়েক দিন ধরে তার চিকিৎসা চলছিল। পরদিন শুক্রবার জাতীয় সংসদের দক্ষিন প্লাজা এবং রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে তার দু'দফা নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকালে ঢাকা থেকে তার মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌলভীপাড়াস্থ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। জীবনের শেষ বছরগুলোতে নরসিংসার হাউস নামের এই বাড়িতেই বসবাস করতেন তিনি। এই বাড়ি থেকেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন এবং মন্ত্রী-এমপি হওয়ার পরও শহরে এলে এই বাড়িতেই বসবাস করতেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এ বাড়ি থেকেই তিনি হাসপাতালে যান।
১৯৭৯ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম জাগদল প্রতিষ্ঠা করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের আইনজীবী হারুন আল রশিদ সেই দলে যোগদান করেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে আমৃত্যু কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচন হন। এরপর তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে এবং ২০০১ সালে নির্বাচিত হন। হারুন আল রশিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ, বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময় ত্রাণ ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বেগম খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় সরকারের সময় তিনি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
হারুন আল রশিদের বাবা আবদুল বারিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের মোক্তার ছিলেন। বাবার ইচ্ছে ও আগ্রহে হারুন আল রশিদ উকিল হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে যোগদান করেন। সেখানে তিনি দুইবার আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।



