উদ্বেগজনকভাবে কমে যাচ্ছে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামির মাজার পুকুরের গজারি-মাদারি প্রজাতির কাছিমের সংখ্যা ও প্রজনন হার। এর জন্য জলবায়ু পরিবর্তন, পুকুরে পলিথিন, আবর্জনা ফেলা ও সরকারি উদ্যোগের ঘাটতিকে দায়ী করছেন পরিবেশবিদরা। এদিকে, মাজার কর্তৃপক্ষ বলছে, আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামির মাজারের পুকুরে থাকা বিরল গজারি-মাদারি প্রজাতির কাছিম বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। নরম খোলস, কালো রং ও বড় আকারের এই কাছিম দেশে আর কোথাও দেখা যায় না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
প্রতিদিন দর্শনার্থীরা মানত ও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে এসব কাছিমকে পাউরুটি, বিস্কুট, কলা ও মিষ্টি খাওয়ান।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ‘পুকুরে পলিথিন ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে কাছিমের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।’
বায়েজিদ বোস্তামী মাজার পরিচালনা কমিটির খাদেম মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘গেল বছর ১২০টি কাছিমের ডিম পাওয়া গেলেও এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭০টিতে। এরই মধ্যে একটি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটেছে, বাকি ডিমগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে বিশেষভাবে।’
পরিবেশবিদ মোহাম্মদ আলী শাহিন বলেন, ‘সরকারি সমীক্ষার মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ নিলে প্রজাতিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।’
বর্তমানে পুকুরটিতে প্রায় ৬৫০ কাছিম আছে। ৫ বছর আগেও এই সংখ্যা ছিল ৭০০টি।



