ফরিদপুরে ক্যারাম খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটি জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে জেলার সালথা উপজেলারর গট্টি ইউনিয়নের লক্ষনদিয়া গ্রামের সঙ্গে জুগিডাঙ্গা ও কাঠালবাড়িয়া গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় দুই গ্রামের কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুগিডাঙ্গা ও কাঠালবাড়িয়া গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়ি ঘর ভাংচুড়, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন ও সংঘর্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান শাকিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরবর্তীতে যাতে আর কোন অপৃতিকর পরিস্থিতি না ঘটে তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঈদের পর দিন জুগীডাঙ্গা গ্রামের জয়নালের দোকানে ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে লক্ষনদিয়া গ্রামের কয়েক যুবকের সাথে কথা কাটাকাটি হয় জুগীডাঙ্গা ও কাঠালবাড়িয়া গ্রামের যুবকদের সাথে। এই নিয়ে ওইদিন রাতেই এক দফা সংঘর্ষ ঘটনা ঘটে। এতে ৩ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারই জের ধরে আজকেও হামলার ঘটনা ঘটে। আজকের ঘটনায় আরো ৪ জন আহত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিব মোল্যা জানান, গট্টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু, বকুল মেম্বার, কামাল ও নুরুর নেতৃত্বে কয়েক’শ লোক ঢাল সরকি নিয়ে জুগীডাঙ্গা ও কাঠালবাড়িয়া গ্রামে হামলা করে। তারা ৩ ঘরে আগুন দেয়, ৪ টি গরু, পিয়াজসহ বিভিন্ন বাড়ি থেকে মূল্যবান মালামাল লূট করে নিয়ে যায়। অন্তত ৫ টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে তাদের ৪ জন আহত হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ক্যারাম খেলা নিয়ে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর মঙ্গলবার শালিস বৈঠকে বিষয়টি সমাধান করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আর আমরা মেনে নিয়েছিলাম। তারপরও ওরা আজকে এই হামলা করলো।
এই বিষয়ে গট্টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু বলেন, ‘হামলার ঘটনা ঘটছে, কিন্তু এর সাথে আমি জড়িত না, দুই পক্ষই আমার সমর্থক’।



