শাহবাগ ছেড়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে, শনিবার সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে সংগঠনটি। এদিকে শুক্রবার বিকালের পর রাতেও রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শাহবাগ এবং বাংলামোটর এলাকা। লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোঁড়ে পুলিশ। দিনভর সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা শতাধিক।
ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা যমুনার সামনে যেতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ আহত হয় প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী।
আহত ব্যক্তিরা জানান, তাঁদেরকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। হঠাৎ করে তাঁদের ওপর অতর্কিত গ্রেনেড হামলা করা হয়।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীরা। হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দীন পাটওয়ারী। বলেন, সরকার কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
আহতদের দেখতে এসে জামায়াত নেতারা বলেন, সরকারের উচিত ছিল শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও কর্মীদেরকে সরকারের নির্দেশে পেটানো হয়েছে, মারাত্মক অত্যাচার করা হয়েছে। হাদীর স্থানে যিনি এখন ভারপ্রাপ্ত রয়েছেন জাবের তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
এদিকে বিকেলের সংঘর্ষের ঘটনা ও হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে সন্ধ্যার পর শাহবাগ অবরোধ করে ইনকিলাব মঞ্চসহ তাদের সমর্থকেরা। পরে পুলিশ সেখানেও সাউন্ড গ্রেনেড টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
অন্তর্বর্তী সরকার পক্ষ থেকে বিবৃতিতে দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের দাবি অনুযায়ী, হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য রোববার জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।



