অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং তাঁর একান্ত সচিব (পিএস) শামসুদ্দিন মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। অবৈধভাবে ২৮২ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তুলে এই আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার (অনুসন্ধান) বরাবর এই আবেদনটি জমা দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
আবেদনে বলা হয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেন হয়েছে। প্রায় ২৮২ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলির ক্ষেত্রে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়, যার মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীতে মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির নজির নেই বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, বদলির নীতিমালা অনুযায়ী এ, বি ও সি গ্রেডের অফিসে একই গ্রেডের কর্মকর্তাদের পদায়ন করার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে সি ও বি গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারদের এ গ্রেডের অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। এমনকি যোগদানের আগের দিনও বদলির আদেশ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, বদলি-বাণিজ্যের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আইন মন্ত্রণালয় গত বছরের ১ জুন সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তবে এর আগেই বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আসিফ নজরুল একাধিক জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি ও বদলির আদেশ দেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ১৭ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করা হয়। সেই আদেশেই নীতিমালা ভঙ্গ করে কয়েকজনকে গ্রেডের বাইরে পদায়ন করা হয় বলে অভিযোগ।
ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন তাঁর আবেদনে অভিযোগ করেন, আইন উপদেষ্টার পিএস শামসুদ্দিন মাসুমের মাধ্যমে এসব ঘুষ লেনদেন পরিচালিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বদলি-বাণিজ্যের বাইরে ‘অনুরোধ’ ও ‘নির্দেশ’-বাণিজ্যের মাধ্যমেও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।



