অপারেশন জ্যাকপট ডেতে বাংলাদেশের জীবিত নৌকমান্ডো ও সেই যুদ্ধের যোদ্ধাদের প্রতি বিশেষ সম্মান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রেগরোভিচ খোজিন! পাশাপাশি স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে চট্টগ্রাম বন্দরে ডুবন্ত জাহাজ ও মাইন অপসারণ করতে গিয়ে জীবন হারানো সেনা ইউরি রেডকিনকে সম্মান জানানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোববার রাতে রাজধানীর রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত অপারেশন জ্যাকপট যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ ও বীরবরণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য পড়ে শোনান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক আলেক্সান্দ্রিয়া ক্লেভনয়!
স্মৃতি একাত্তর ও রাশিয়ান হাউজের আয়োজনে ১৯৭১ আওয়ার প্রাইড–এর সহায়তায় অনুষ্ঠানে কমান্ডোরা তুলে ধরেন সেই বীরত্বের গল্প! জানান কয়েকজন কেবল জানতেন কোড! আকাশবাণী রেডিওতে হঠাৎ বাজে গানের সংকেত, ‘আমার পুতুল আজকে যাবে শ্বশুরবাড়ি’। ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ওই সংকেত পেয়েই অপারেশন জ্যাকপট-এর দুঃসাহসিক অভিযানে নেমেছিলেন বীর নৌযোদ্ধারা!
তারা জানান, আগস্টের ১৫ ও ১৬ তারিখ অবিস্মরণী অপারেশন ব্যাপক পরিচালিত হয় একসঙ্গে চার জায়গায়! চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে! নৌ কমান্ডোদের নেতৃত্বে নৌ যোদ্ধারা আক্রমণ করে পাকিস্তানি জাহাজসহ অন্যান্য দেশের জাহাজ ডুবিয়ে সমুদ্রবন্দর ও নৌ বন্দর অকেজো করে দেয়! বিশ্ব জেনে যায় পাকিস্তানিদের সব স্বাভাবিক থাকার ঘটনা মিথ্যা!
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন হয়। ছিল তানভীর মোকাম্মেল নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, বন্দরের মাইন অপসারণ ও ডুবে যাওয়া জাহাজ সরাতে গিয়ে জীবন দেওয়া রাশিয়ান সৈন্য ইউরি রেডকিনকে সম্মাননা প্রদান ও অপারেশন জ্যাকপটে সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত দুটি গান পরিবেশন করেন মকবুল হোসেন ও মনিরা রওনাক বুবলি।
অনুষ্ঠানের মুখ্য আয়োজক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান জানান, আয়োজনের লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জলবীরত্বের এই অনবদ্য ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা, জীবিত বীরদের অভিজ্ঞতা জানা, সম্মাননা প্রদান ও যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের স্মরণ! তিনি রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতকে আয়োজনে সহযোগিতা করায় ধন্যবাদ জানান!
অনুষ্ঠানে নৌ কমান্ডো এ ডব্লিউ চৌধুরী, আবিউর রহমান, সৈয়দ আহমেদ মজুমদার, চৌধুরী মাহবুবুর রহমান, আব্দুল গফুর ও মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন!



