খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার মধ্যে থাকা ‘খুলনা মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার’ দখল করে ‘শহীদ মীর মুগ্ধ হল’ নামে আবাসিক হলের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে আজ রোববার দুপুরে খামার কার্যালয়ের নামফলকের ওপর নতুন ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
দুপুরে কয়েক শ শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে খামারে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা দাফতরিক ভবনের গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের হতে বলে। ১০ মিনিটের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এসময় নিরাপত্তার কারণে কর্মরতরা ভবন থেকে বের হয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দেয়। এসময় তারা মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের একটি সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে শহীদ মীর মুগ্ধ হল নামের একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দাফতরিক ভবনের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার ব্যবস্থাপক মেহেদি হাসান বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে খুবি শিক্ষার্থীরা এসে ১০ মিনিটের আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের হতে বলেন।’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খামারের জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার জন্য ইতোপূর্বে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণু উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী সূত্র জানায়, সীমানার ভেতরে অবস্থিত ১০.৩৫ একর আয়তনের এ খামারটি আবাসন সংকট নিরসন, গবেষণাগার সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে আছে। বর্তমানে খুবির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি হলেও হল রয়েছে মাত্র পাঁচটি। ফলে মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। জীববিজ্ঞানভিত্তিক ডিসিপ্লিনগুলোর মাঠ গবেষণার ক্ষেত্রেও জমির অভাব তীব্র সমস্যা তৈরি করছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষার্থীরা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেন এবং মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জমি হস্তান্তরের অনুরোধ জানায়। চলতি বছরের মার্চে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখনও বিষয়টি ঝুলে আছে।



