সুন্দরবনের দক্ষিণে দুবলার চরে শুঁটকি তৈরির মৌসুম। তবে বনদস্যুদের তৎপরতা বাড়ায় দেশের সর্ববৃহৎ শুঁটকি পল্লীতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দস্যুদের হাতে এখনো জিম্মি অন্তত ৫০ জন জেলে।
এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন দুবলারচরের ১৫ হাজারের বেশি জেলে। ২০ দিনেই দস্যুদের হাতে জিম্মি অন্তত ৫০ জন জেলে। দস্যু দমন না হলে মাছ ধরবে না বলে জানিয়েছেন জেলেরা।
মাছ ধরা বন্ধ থাকায় মৌসুম শেষে খালি হাতে বাড়ি ফেরার চিন্তায় দিশেহারা তারা। মুক্তিপণের কারণে বনদস্যুরা জিম্মি করছেন বলে জানান জেলেরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই বনদস্যুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে দাবি জেলে সমিতির। মোংলার মৎস্যজীবী সমিতি সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, ‘দস্যু দমন না হলে মাছ না ধরতে যাবে না আমাদের জেলেরা। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে জেলেরা মাছ ধরতে পারে।’
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে এরই মধ্যে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, একটি অসাধু চক্র সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ড বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।
জেলেদের নিরাপত্তায় দস্যুদের সাথে কোনো আপোষ করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কথা পরিষ্কার। প্রশাসনকে নির্দেশনা দেব যেন যেকোনো মূল্যে এটিকে নির্মূল করতে হবে।’
সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন ও করিম শরীফ বাহিনীসহ বনদস্যুদের বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় বলে জানা গেছে।



