‘আশার তীর্থযাত্রী; ফাতেমা রাণী মা মারিয়া, বারোমারি’ এই মূলভাবে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী বারোমারী খ্রীষ্টান মিশনে দুদিনব্যাপি ২৭তম বার্ষিক তীর্থোৎসব শেষ হয়েছে। একইসঙ্গে দীর্ঘ ২৫বছর পর উদযাপন করা হয় তীর্থের জুবিলি উৎসব।
বৃহস্পতিবার প্রধান পৌরহিত্যকারী ন্যুনসিও-কে বরণ, মণ্ডলি ও বারোমারী তীর্থের জুবিলী উদযাপন করা হয়। পরে পুর্নমিলন সংস্কার, পবিত্র খ্রীস্টযাগ, জপমালার প্রার্থনা; রাতে আলোক শোভাযাত্রা, সাক্রান্তের আরাধনা, নিরাময় অনুষ্ঠান, ব্যক্তিগত প্রার্থনা ও নিশি জাগরণের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় প্রথমদিনের মূল উৎসব।
আর শুক্রবার জীবন্ত ক্রশের পথ ও মহা খ্রীস্টযাগের মাধ্যমে শেষ হয় এবারের তীর্থোৎসব।
এবার প্রায় ৩৫হাজার তীর্থ যাত্রী এসেছিলেন দেশ-বিদেশ থেকে। উৎসবে মূল আর্কষণ ছিল আলোক শোভাযাত্রা। ভক্তরা দেড় কিলোমিটার পাহাড়ি ক্রশের পথ অতিক্রম শেষে ৪৮ ফুট উঁচু মা-মারিয়ার কাছে নিজেদের নানা সমস্যা সমাধানের জন্য মানত পূরণ করেন।
এ বিষয়ে বারোমারির রুপন চেংচাম বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস মা মারিয়া আমাদের মনের আশা পূরণ করেন। এজন্যই এ তীর্থ উৎসব পালন করি আমরা।’
মধুপুর জলছত্র থেকে আসা মারিয়া নকরেক বলে, ‘আমি আমার বাবা মায়ের সাথে এসেছি। মা মারিয়ার কাছে আমার প্রার্থনা আমি যেন ভালোভাবে লেখা পড়া করতে পারি।’
ঢাকা থেকে আসা এলার্নিম বলেন, ‘আমরা মা মারিয়ার কাছে এজন্যই আসি, মায়ের কাছে আসলে আমার খুব ভালো লাগে। আমাদের মনের আশা পূরণ হয়।’
এ উৎসবের মাধ্যমে বিশ্ব মানবতার কল্যাণে প্রার্থনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে; ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের পালপুরহিত বিশপ পনেন পল কুবি সিএসসি।
শেরপুর জেলা পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে এবারের তীর্থ উৎসব।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ‘এই উৎসবটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ।’
উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বারোমারী সাধু লিওর এ ধর্মপল্লীটি। ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে নির্মাণ হওয়ার পর থেকেই এটিকে বার্ষিক তীর্থ স্থান হিসেবে নেয়া হয়েছে। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহের বৃহস্পতি ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় ক্যাথলিকদের এই তীর্থোৎসব।



