ভারত মহাসাগরে এমভি আবদুল্লাহ নামে বাংলাদেশি পণ্যবাহী একটি জাহাজসহ ২৩ নাবিক ও ক্রুকে জিম্মি করে রেখেছে সোমালিয়ান জলদস্যুরা। জিম্মিদের মধ্যে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার মাহমুদ জয় নামে এক নাবিক রয়েছেন। জলদস্যুদের কাছে জিম্মি জানার পর থেকেই দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কে রয়েছে জয়ের পরিবার ও স্বজনেরা।
মাহমুদ জয় নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের জিয়াউর রহমান ও আরিফা দম্পতির ছেলে। তিনি ওই জাহাজের অর্ডিনারি সি-ম্যান (সাধারণ নাবিক) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
জয়ের পরিবার বলছে, জলদস্যুদের হাতে আটকের পর জয় তাঁর মায়ের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছেন। তখন বিপদের কোনো কথা বলেননি তিনি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে এ ঘটনা জানতে পারে তাঁর পরিবার ও স্বজনেরা।
জয়ের চাচাতো ভাই মারুফ আলী বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে জয় তাঁকে ফোন করে বলেন ‘আমাদের জাহাজে জলদস্যুরা আক্রমণ করেছে। আমার সঙ্গে আর কথা না-ও হতে পারে। বাড়িতে কাউকে কিছু বলিস না। এখন মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে পারে’–বলেই ফোন কেটে দেন জয়।
মারুফ বলেন, পরবর্তীতে মেসেজ করলে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে জয় মেসেজ দিয়ে জানান, ‘দস্যুরা ফোন কেড়ে নিয়েছে, আর কথা হবে না।’
জয় তাঁর মা আরিফা বেগমকে বলেন, ‘মা আমার ফোনে ইন্টারনেট থাকবে না, এখন আর কথা না-ও হতে পারে। আমার সঙ্গে হয়তো এক-দুই মাস কথা না-ও হতে পারে। ঈদে যা কেনাকাটা করা লাগবে তা তোমরা কিনে নিও।’
জয়ের বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘প্রথমে কিছু জানতে পারিনি। ছেলের সাথে কথাও বলেছি দুপুরে। বাড়িতে এসে জানতে পারি যে, আমার ছেলেসহ ২৩ জন জলদস্যুদের কাছে জিস্মি হয়েছে। সরকারের কাছে আমার ছেলেসহ নাবিকদের দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনার দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক আবু নাছের ভুঞা বলেন, ‘জয় মাহমুদের সংবাদ পাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখছেন। সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।’
গত ৪ মার্চ বাংলাদেশের এস আর শিপিংয়ের ১৩ মিটার গভীরতার জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা দেয়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে খবর আসে, ভারত মহাসাগরে জাহাজটি ছিনতাই হয়েছে। জাহাজের ২৩ নাবিককে স্পিডবোটে সোমালিয়া উপকূলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন একজন।
এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে থাকা নাবিকদের মধ্যে চট্টগ্রামের বাসিন্দা আছেন ১১ জন। বাকিরা ফেনী, নোয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার। আক্রান্ত নাবিকদের সবাই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এস আর শিপিংয়ের কর্মকর্তারা।
জাহাজটি ছাড়িয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে এস আর শিপিং। এজন্য সরকার ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
এস আর শিপিংয়ের মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সব সংস্থার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা আমাদের কাজ পরিচালনা করছি। তারা আমাদের যেভাবে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।’


সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়া জাহাজ নিয়ে যা জানা যাচ্ছে 
