নাটোরের বাগাতিপাড়ায় স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে গলা কেটে হত্যা করে শিশুকন্যাকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে নিহতের স্বামী আসমত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব–৫ নাটোর ক্যাম্পের সদস্যরা। শুক্রবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের সালঙ্গা থানার রামারচর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চুরি করতে নিষেধ ও চুরির ঘটনায় স্বাক্ষী দিতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে আসমত স্ত্রীকে হত্যা করেন বলে এ ঘটনার মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই তথ্য দিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তারের সময় আসমত আলীর হেফাজত থেকে তাঁর ৮ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ থেকে নাটোর র্যাব ক্যাম্পে নিয়ে আসার পর তাঁকে বাগাতিপাড়ায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব নাটোর ক্যাম্পের ইনচার্জ এ এস পি রায়হানুর রহমান বলেন, ‘নিহতের স্বামী এলাকায় ছোট ছোট চুরি করত। এ নিয়ে এলাকায় সবাই সুফিয়া বেগমকে নানা ধরনের বাজে কথা বলে অপমান করত। তিনি অপমান সহ্য করতে না পেরে স্বামীকে চুরি করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসমত আলী তাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেও চুরি করতে নিষেধ করেন এবং চুরির অভিযোগে ডাকা একটি সালিশ বৈঠকে স্বামীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিতে চাইলে আসমত আলী রেগে যান। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে শিশুকন্যা ঘুমিয়ে পড়লে আসমত আলী তাঁর কয়েকজন সহযোগিকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা করেন।’
এই র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পরে আসমত শিশুকন্যাকে নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহত সুফিয়ার ভাই কুরবান আলী আসমত আলীকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারে র্যাবের সহযোগিতা চায়। পরে তথ্য–প্রযুক্তি ও সোর্সের মাধ্যমে আসমতের আবস্থান শনাক্ত করে এবং সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার ও তার শিশু কন্যাকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে নাটোর র্যাব ক্যাম্পে নিয়ে আসার পর বাগাতিপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেরে অভিযান চলমান রয়েছে।’



